রোগী শূণ্য বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপতালে মাত্র ৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ৪ জন রোগী রয়েছে মহিলা ওয়ার্ড একেবারেই ফাাঁকা। করোনা ভয়ে ডাক্তাররা কোন রোগী হাসপতালে ভর্তি নিচ্ছেনা বলে এমন অভিযোগ রোগীদের। বর্হিবিভাগে কোন রোগী চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের কাছে যেতে দিচ্ছেন না এবং রোগীদের দুর থেকে বলে দিচ্ছেন উন্নত হাসপতালে চলে যেতে। বর্তমান সময়ে ডাক্তারদের সার্বক্ষনিক হাসপাতালে থাকার কথা থকলেও তারা হাসপতালে নেই। এ জন্য সাধারণ রোগীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

এছাড়া বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন করোনা রোগীর সামান্য চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই। যদিও ৬ বেডের আইস্যুলেশন খোলা হয়েছে এ পর্যন্ত কোন রোগীতে এখানে রাখা হয়নি বা ভর্তি করা হয়নি। রোগীদের অভিযোগ যখন থেকে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে ধরা পড়েছে তখন থেকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন সাধারণ রোগী এলে ডাক্তাররা হাসপতালে ভর্তি করতে অনিহা প্রকাশ ও রোগীদের নিরুস্বাহিত করে যাচ্ছে। কোন এলে রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অযুহাতে তাদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) এক রোগীর বিপি মেপে দেয়ার জন্য ব্রাদারের কাছে গেলে তিনি রোগীকে দুর দুর করে তাঁড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে হাসপতালে হট্টগোল দেখা দেয়। পরে হাসপতালের ইনচার্জ বিষয়টি মিমাংসা করেন। এদিকে জনশূণ্য হয়ে হাসপাতালটি যেন ভুতুরে নগরীতে পরিনত হয়েছে।

এ ব্যপারে ভর্তি থাকা রোগীরা জানান, কয়েক দিন যাবত কোন ডাক্তার সেবা দিতে আসছেন না। নার্সরাই দুর থেকে ওষুধ সেবনের কথা বলে থাকেন। কেউ আছে আসেন না।

এছাড়া রোগীরা আরও বলেন, বর্তমানে হাসপতালের খাবারের মান ভাল নয়। যা খাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ছিল স্বাধীনতা দিবস। হাসপতালে রোগীদের উন্নত মানের খাবার দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে খাবার দেয়া হয়নি। সকালে মিস্টি ও সেমাই দেয়ার বিধান থাকলেও তা দেয়া হয়নি। দুপুরে সামান্য পোলাও দেয়া হয়। এ সকল ব্যপারে হাসপতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. কবির হোসেন বলেন, হাসপাতালে মাত্র ৪ জন রোগী রয়েছে। করোনা আতঙ্কে অনেকে হাসপতালে আসছেন না। আমরাও নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে আগের তুলনায় এখন রোগী হাসপতালে আসছে না। বন্দরে কিছু রোগী আছে যারা সব সময় ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয় এখন তারাও করোনা ভয়ে চলে গেছে। বর্হিবিভাগেও রোগীরা আসছে না। তবে আমরা চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। আর শ্বাস কষ্ট রোগী এলে আমরা শহরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাই। তবে রোগী হাসপাতালে আসলে অনেকে করোনা গুজব ছড়ায়। এ কারণেও অনেকে এখন হাসপতালে আসতে চাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন করোনা চিহিৃত করার মতো কোন ব্যবস্থাই আমাদের এখানে নেই। তাই নিরুপায় হয়ে অনেককে হাসপতালে না এসে শহরের উন্নত হাসপতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে রোগীদের বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিতে। হাসপতালের ডাক্তারদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা চিকিৎসা দেবে। তবে বন্দরে এধরণের কোন ঘটনা এখনো ঘটেনি। কোন ডাক্তার বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেননি। এতে করে বন্দরের সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বিরত হচ্ছে।

সাধারণ রোগীরা জানান, তাদের চিকিৎসা সেবা যেন ডাক্তরা সঠিক ভাবে দেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

0