র‌্যাবের অভিযানে আটক ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার

0

সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এইচ.এস.সি পাশ করে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়দানকারী একজন ভূয়া ডাক্তারকে আটক করেছে র‌্যাব।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় ওই ডাক্তার র‌্যাবকে তার ডাক্তারি পাশের কোন প্রকার কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারে নি। আটকৃত ওই ভূয়া ডাক্তারের নাম সবুজ ইসলাম সরকার (৩৮)।
ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়দানকারি সবুজ ইসলাম সরকার দাউদকান্দির সুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এস.এস.সি পাশ করেন ১৯৯৮ সালে। মাঝে এক বছর বিরতি দেওয়ায় এই.এস.সি পাশ করেন ২০০১ সালে গৌরিপুর ফজলুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে। তিনি ২০০৯ সালে কোলকাতার বারাসাতের বি.সি.বি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ২০১৩ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে আলট্রা সনোগ্রাফির উপর কোর্স করেন। ২০১৬ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকায় মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগি দেখা শুরু করেন তিনি। পরে নিজেই হিরাঝিল এলাকার হাজী জামান মঞ্জিলের ৩য় তলায় সেবা মেডিকেল সেন্টার নামক একটি চেম্বার নিয়ে রোগি দেখা শুরু করেন ২০১৮ সাল থেকে। কিন্তু নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়দানকারি সবুজ ইসলাম সরকার র‌্যাবের অভিযানের সময় কোন কাগজপত্রই দেখাতে পারেনি। এমনকি কলকাতার যেই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবী করেন র‌্যাবের জিজ্ঞসাবাদে সেখানকার ঠিকানাটাও সঠিক ভাবে বলতে পারেনি তিনি। বিএমডিসিরও (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) কোন রেজিষ্ট্রেশন ছিলো তার। এক পর্যায়ে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বিকার করেছেন তিনি একজন ভূয়া ডাক্তার। এসময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-১১র সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাবিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরি পিপিএম।
এবিষয়ে মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, র‌্যাবের ভেজাল বিরোধী অভিযানের নিয়মিত একটি অপারেশন ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার সেবা মেডিকেল সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আমরা সবুজ ইসলাম সরকার নামে একজনকে আটক করি যিনি কিনা নিজেকে একজন এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিয়ে থাকেন। আদতে তিনি একজন ভূয়া ডাক্তার। তার কোন সার্টিফিকেট বা অন্যান্য যেসমস্ত কোর্সের কথা তিনি বলেছেন কোন কাগজপত্রই তিনি আমাদের দেখাতে পারেনি। তিনি গত প্রায় ৩/৪ বছর যাবৎ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগিদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। সে আমাদের কাছে স্বিকার করেছে যে তিনি একজন ভূয়া ডাক্তার। আমরা তার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা করবো।

0