র‌্যাব-পুলিশ ছাড়াই ‘সুন্দর ভোট’, স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভোটার-প্রার্থীদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ছিল না পুলিশ, র‌্যাব-কিংবা সেনাবাহিনী। তারপরেও যথা নিয়মে ভোট হয়েছে। গণনা শেষে হয়েছে ঘোষণা হয়েছে ফলাফল। ছিল না কারো কোন অভিযোগ।

ভোটার-প্রার্থী দু‘পক্ষই বলছেন, এমন নির্বাচন দেখেনি আগে কেউ।

শিল্প অধ্যুষিত ফতুল্লার বিসিক এলাকার ফকির এ্যাপারেল গার্মেন্টস লিমিটিডে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে অংশগ্রহণকারী (পিসি) কমিটির নির্বাচন শুরু হয়। চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ১৫টি আসনে ৫২ জন প্রার্থী। কারখানাটির ৭ হাজার ৯৪৩ জন শ্রমিক তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

ভোটাররা জানিয়েছেন, খুব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হয়েছে।

৫নং আসনের প্রার্থী মাসুদ মিয়া জানান, খুব ভালো নির্বাচন, এমন নির্বাচন মনে হয়না দেশের মধ্যে আর কোথাও হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সুমি আক্তার জানান, ভোটাররা সুন্দর ভাবে এসে তাঁদের ভোটার অধিকার প্রয়োগ করে গেছে। কেন্দ্রের পরিশেষ খুব ভালো।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, শ্রমিকদেরকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করে অংশগ্রহণকারী (পিসি) কমিটির নির্বাচনের বিধান রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে মালিকদের সাথে সমন্বয় ঘটাবে। এতে যেমন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত হবে। সমাধান হবে বিভিন্ন সংকটও।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন ফকির এ্যাপারেস্ এর সিওও বখতিয়ার উদ্দিন আহমদ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ফকির এ্যারেলস সব সময় শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করে এবং এটা এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শ্রমিকদের স্বার্থটাকে বেশি প্রাদান্য দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের নির্বাচন। তারা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ভোটার-প্রার্থী ও প্রার্থীদের এজেন্টদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু কোন অভিযোগ পাইনি। সকলেই সুন্দর ভাবে ভোট দিয়েছে। তাঁরা বলেছে, এমন নির্বাচন আর কোথাও দেখেনি। মালিক শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয় ঘটাবে।

নির্বাচনের পুরো পরিবেশ ঘুরে দেখেছেন গার্মেন্টসের পরিচালক। তিনিও পরিবেশ দেখে প্রশংসা করেছেন। একই ভাবে নির্বাচনের উৎসব আমেজ দেখে প্রশংসা করেছেন ভায়ারদের প্রতিনিধিরা।

কোন আসনে কে নির্বাচিত হয়েছে

কারখানাটি ১৫টি আসনে বিভক্ত করা হয়েছে। এ সব আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫২ জন প্রার্থী। ৭ হাজার ৯৪৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পছন্দের ১৪ জনকে বেছে নিয়েছে। একটি নির্বাচিত হয়েছে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায়।

১ নং আসনে ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে মো. সমরাজ মিয়া, ২ নং আসনে ১৫৮ ভোট পেয়ে শফিকুল ইসলাম, ৩নং আসনে ৭৯ ভোট পেয়ে মোসা. আফসানা, ৪নং আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আল-আমিন, ৫ নং আসনে ১৯৬ ভোট পেয়ে মাসুদ, ৩৭১ ভোট পেয়ে ৬নং আসনে সাগরিকা, ৭নং আসনে ২৯৯ ভোট পেয়ে আহসান মিয়া, ৮নং আসনে ৩৪৮ ভোট পেয়ে এলিজা খাতুন. ৯নং আসনে ২৭২ ভোট পেয়ে মোসা. মহসিনা খাতুন, ১০ নং আসনে ৩৬০ ভোট পেয়ে কলি বেগম, ১১ নং আসনে ১৮৯ ভোট পেয়ে মোসা. সাথী আক্তার, ১২নং আসনে ৪০৫ ভোট পেয়ে মো. রাসেল মিয়া, ১৩ নং আসনে ৫৮ ভোট পেয়ে চঞ্চলা রাণী দাস, ১৪নং আসনে ১৬২ ভোট পেয়ে মোসা. শ্যামলী খাতুন ও ১৫ নং আসনে ১৫৬ ভোট ফেয়ে মো. বাবুল।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন