লঞ্চডুবির ১৩ঘন্টা পর মুন্সিগঞ্জের সুমন জীবিত উদ্ধার

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় একের পর এক লাশ যখন উঠে আসছিল, জীবন্ত ফিরে আসাটা অনেকটাই অবাস্তব ছিল সেখানে। কিন্তু, সেই অবাস্তব ঘটনায় বাস্তবায়িত হলো বুড়িগঙ্গার তীরে। ৫০ ফুট পানির নিচে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর, আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম সুমন।

সোমবার সকাল ৯টা ৩০মিনিটে শ্যামবাজার এলাকায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর দীর্ঘ ১৩ঘন্টা পর রোববার (২৯ জুন) রাতে সুমনকে জীবিত উদ্ধার করে ডুবুরিরা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। তিনি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সজল বেপারীর ছেলে। সুমন পেশায় ফল ব্যাবসায়ী। তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। চোখের ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা এবং অক্সিজেন লেভেল নিচে নেমে গেছে।

এদিকে লঞ্চ ডুবির ১৩ ঘণ্টা পর কিভাবে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো এই নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশ্ন। তবে এমন মিরাকল বাস্তবে সম্ভব এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যাক্ষ্যাও রয়েছে। লঞ্চের সঙ্গে ডুবে যাওয়া ওই ব্যক্তির প্রাণ বাঁচার অন্যতম কারণ এয়ারপকেট। এয়ারপকেট আসলে কি একটা উদাহরণ দিলেই তা সহজেই বোঝা সম্ভব।

পাঠক বোঝার জন্যে সায়েন্টেফিক্যালি একটি পিপড়া ধরুন।সেটিকে একটি কাচের গ্লাসে নিন।এরপর একটি বালতিতে সোজাসুজিভাবে তা উল্টে দিন।বাতাসের চাপে পানি কিন্তু সোজা হয়ে ডুবানো গ্লাসে প্রবেশ করবেনা।আর হ্যা বাতাসের যেহেতু প্রায় ২১% অক্সিজেন।সুতরাং পিঁপড়াটিও জীবিত থাকবে। সে তুলনায় লঞ্চের আয়তন বিশাল।তার এয়ার পকেট আরো বিশাল।

এলএন/এইচএস/০৬৩০-০১

0