লাঠির আঘাতে মৃত্যু, ২০মাস পর রহস্য উৎঘাটন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগেই হয় খুন। আর লাশ উদ্ধারের চারদিন পর মামলা দায়ের করা হয় থানায়। এরকমই একটি হত্যাকান্ডের ঘটনার তদন্ত চলে দীর্ঘ ২০মাস। কোন প্রকার প্রমাণ না থাকায় বেগ পেতে হয় সিআইডিকে। দীর্ঘ সময় পর হত্যাকান্ডের একমাত্র আসামীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আসামী আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

ঘটনাটি ২০১৮সালের ২২জুনের, সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার আব্দুর রহিমের ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর জানা যায় গত দু’দিন আগেই খুন হয়েছে তার। নারীর নাম নাজমা আক্তার ঋতুর (৩৫)।

১২ফেব্রুয়ারি দুপুরে হত্যাকান্ডের একমাত্র আসামী হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামীর নাম লুৎফর রহমান। এই লুৎফর অন্য কেউ নন, নিহত নাজমা আক্তারের প্রেমিক।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাজধানীর বংশালের মালিটোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় নিহত ঋতুর প্রেমিক লুৎফর রহমানকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, নিহত নাজমা আক্তার ঋতু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের দক্ষিন পৈরতলার আবুল হাশেম মিয়ার মেয়ে। ঘাতক লুৎফর রহমান একই জেলার বিজয়নগর থানার বীরপাশা এলাকার মৃত জিতু মিয়ার ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, লুৎফর রহমান নিহত নাজমা আক্তারের প্রেমিকা ছিল। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। লুৎফর রহমান তার নাম সেখানে নাদিম বলে জানায়। লুৎফর ও নাজমা আক্তার উভয়েই বিবাহিত ছিল। নাজমার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে আর লুৎফরের স্ত্রী মৃত। তবে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

আসামির স্বীকারোক্তির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও জানান, নাজমার সাথে তার পরিবারের তেমন যোগাযোগ ছিল না। সে টেইলার্সের কাজ করতো। টেইলারি মেশিনের একটি যন্ত্র কিনতে গিয়েই রাজধানীর নবাবপুরে নিহত নাজমার সাথে পরিচয় হয় লুৎফরের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। লুৎফরের নাম পরিবর্তন করে নাদিম বলে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয় তারা। সেখানে তারা বসবাস করতো। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এক রাতে টিভি বন্ধ করা নিয়ে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে সিমেন্টের তৈরি লাঠি আকারের একটি বস্তু দিয়ে নাজমার মাথায় বাড়ি দেয় লুৎফর। এতে মারা যায় নাজমা। লাশ ঘরে রেখেই দরজা তালা মেরে চলে যায় সে। দুইদিন পর লাশ পঁচা গন্ধ বের হলে আশেপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

এর চারদিন পর ২০১৮ সালের ২৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নাজমার প্রাক্তন স্বামী নজরুলকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই। আগস্টে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হলে আসামি নজরুলকে খুঁজে পায় না পুলিশ। দীর্ঘ সময় নানাভাবে তদন্ত করেও কোন ক্লু পাচ্ছিলো না সিআইডি। একটি পাসপোর্টের সূত্রধরেও তদন্ত চালায় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে নাজমার ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে নাজমার এক প্রেমিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। তবে তার সাথেও হত্যাকান্ডের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এই কললিস্টের সূত্রেই লুৎফরের কাছে পৌছায় সিআইডি। পরে গত মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় পর হত্যাকান্ডের মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

0