শহীদ এনামুল স্মরণে চাষাঢ়ায় শ্রমিক সমাবেশ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : শহীদ এনামুল স্মরণে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট মণ্টু ঘোষ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, রাশিদা বেগম, বিমল কান্তি দাসসহ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, এসিআই ঔষধ কারখানার শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি পুলিশের গুরিতে শহিদ হন শ্রমিক এনামুল হক। এরপর মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে জেল-জুলুম, হামলা ও নানাবিধ নির্যাতন চালানো হয়। বেশির ভাগ নেতাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এনামুলের জীবনের বিনিময়ে শ্রমিকদের আংশিক মজুরি বৃদ্ধি হলেও ৬ দফার সেই আন্দোলন আজও পরিপূর্ণভাবে সফল হয়নি। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিসহ এনামুল হত্যার বিচার চাই।

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, দেশে কোন সর্বনিম্ন মজুরি কাঠামো নেই। মজুরি বোর্ডের তালিকাভুক্ত ৪৩ টি সেক্টরে মালিকরা যত কম মজুরি দিয়ে কাজ করাতে পারে সে চেষ্টা করে। বাংলাদেশের পে-কমিশনে সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ১০:১। বাস্তবে এই বৈষম্য আরও বেশি। গার্মেন্টসে ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সকল খাতের শ্রমিকরা পে-কমিশনের চেয়ে অনেক কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। বেকারত্ব, মালিকদের শক্তি, সরকারের সহায়তা আর শ্রমিকদের অসংগঠিত অবস্থার কারণে শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারছে। কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিপুরণ মাত্র ২ লাখ টাকা। উন্নয়নের মহাসড়কে মধ্যম আয়ের দেশে একজন শ্রমিকের জীবনের মূল্য নিয়ে চলছে এই প্রহসন।

নেতৃবৃন্দ শ্রম আইনের ২৩,২৬,২৭ ধারাসহ সকল অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, ছাঁটাই-নির্যানত বন্ধ, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত কর এবং বাজারদর, শ্রমিকের জীবনমান বিবেচনা ও মজুরি কমিশনের ঘোষণা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করার দাবি করেন।

0