শামীম ওসমানকে আইভী ‘আপনি দখলের স্বভাবটা বন্ধ করুন’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘মাননীয় সংসদের কাছে প্রশ্ন? আপনি অনেক বড় বড় কথা বলেন, ২ মিনিটে নারায়ণগঞ্জকে দখল করে তছনছ করে দিবেন। ৫ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টকে দখল করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করবেন। সেগুলি কি শুধু আপনার মুখের কথা। যদি মুখের কথা না হয়ে থাকে, তাহলে আপনার এলাকার মধ্যে কেন মাঠ দখল হয়ে যাবে।’

শনিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় পাগলার আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষায় একাত্মতা প্রকাশ করে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিনে এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। এ সময় তার পাশে বসে ছিলেন শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ ও আওয়ামীলীগ নেতা আনিসুর রহমান দিপু।

আইভীর ভাষ্য মতে, ‘আপনি এই খেলার মাঠে অন্তত ১০ বার এসেছেন, কথা দিয়েছেন। কিন্তু এখন কেন পিছু হঠছেন। আপনি আপনার এলাকার আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষা না করে কেন? নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওসমানী স্টেডিয়ামকে দখল করে আপনার বাবার নামে করেছেন? কি কারণে? ওসমানী স্টেডিয়ামের জন্য পৌরসভা ৯ একর জমি দিয়েছে, আপনি সেখানকার ৪ একর জমি দখল করেছেন। আমিতো আপনার বাবার নামে রাস্তা করেদিয়েছি কোন কার্পণ্য করিনি। আপনি আমার কাছ থেকে জয়গা চেতেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা একেএম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম করে দিতাম। কিন্তু আপনি দখল করবেন কেন? দখলের স্বভাবটা বন্ধ করুন। আপনি নারায়ণগঞ্জটা দখল করতে পারেন নাই। পারবেনও না। আলীগঞ্জে আসুন, যে কথা আপনি জনগণকে দিয়েছেন সেই কথা রাখুন।’

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, খেলার মাঠের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। যেখানে আমাদের সরকারই মাঠ, ঘাট, হাট ও পুকুরের নিশ্চয়তা দিবে। কেউ হয়তো এই মাঠ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন।
আমার দৃড় বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্যটা যায়নি। উনি যদি সত্যটা জানতেন তাহলে এত সুন্দর একটি মাঠ দখল করে ভবন করতেন না। মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীও যদি একবার এই মাঠে আসতেন, তাহলে নিশ্চিই এ মাঠে উনি ভবন করতে দিবে না। তাহলে কারণ নজর পরেছে এই খেলার মাঠে? এ দুসাহস ওই হায়নাদেরই হয়, যারা টাকাকে অনেক বেশি ভালোবাসেন। যদি তারা নারায়ণগঞ্জের মাটিকে মনের মধ্যে ধারণ করতো, তাহলে এখানে সবুজের বুক চিরে বিল্ডিং তৈরি করতে পারতো না। যে এই কাজ করতে চাইছে সে মানুষ না। সে মানুষ নামধারী পশু।

মেয়র আরো বলেন, ৩ বারের এমপি হয়েছেন আপনি। অথচ, এখনও আপনার এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ। এখানে প্রচুন্ড গামেন্টর্স ফেক্টোরী রয়েছে। আয়ও ভালো হবে। তাহলে কেন আপনি এই এলাকার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করছেন। কেন এখানকার রাস্তা ঘাট অপরিকল্পিত ভাবে থাকবে। কেন আপনার এখানে মানুষের বিনোদনের জন্য ২-৩টি পার্ক হবে না। আপনি কেন ফতুল্লাকে পৌরসভা ঘোষণা দিচ্ছেন না। কাদেরকে সুভিদা দেওয়ার জন্য এ কাজ করছেন। এটা আপনার চালাকি। এই চালাকি আপনি বন্ধ করুন।

পরিশেষে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা পাশে আসলে আসবে। না আসলে না আসবেনা। কিন্তু জনতা সৎ সব সময় থাকবে। নেতারা ভুল করে কিন্তু জনগণ ভুল করে না। আদর্শগত সমস্য থাকতে পারে কিন্তু খেলার মাঠের জন্য এক হতে হবে। এ মাঠের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলেই পলাশের পাশে এসে দাড়ান। কাপুরুষ যারা, বড় কথা বলে, মারধর করতে যায়, পিস্তলবাজী করে, তাদের আশার দরকার নাই। জনগণ তাদেরকে গ্রহণ করবে না।

0