শামীম ওসমানের নির্দেশে না.গঞ্জে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর চাষাড়া শহীদ মিনারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে নেতা-কর্মীরা এক সাথে চাষাড়া থেকে নগরীর ব্যাকের মোড় এলাক হয়ে আবার চাষাড়া এসে শান্তি শোভাযাত্রা সমাপ্ত করেন।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মাহনগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ নাজমুল আলম সজল, পরিবেশ বিদ সুজিত সরকার প্রমুখ।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মাহনগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেন, গত অষ্টমি পূজা থেকে যখন কুমিল্লাসহ সাড়া দেশে ধর্মিয় সংখ্যা লঘুদের উপর আক্রমন শুরু করে তখন আমাদের নেতা শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি অঙ্গসংগঠনরে নেতাদের মাঠে নামিয়েছেন। যাতে করে নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন থাকে। শামীম ওসমানের পরিবার দেশের সাম্প্রদায়িক পরিবার গুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশে কোথায় কি হলো সেটা আমরা দেখবো না। নারায়ণগঞ্জে কোন ধর্মিয় সংখ্যা লঘুর বাড়িতে বা মন্দিরে হামলা হলে আমরা শামীম ওসমানের নেতৃত্বে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবো।

তিনি আরও বলেন, যারা দেবত্তর সম্পত্তি দখল করেন, যারা মসজিদের যায়গা খায় তারাও ‍কিন্তু সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, তাদের বলতে চাই, সাবধার থাকেবেন। সেই গোষ্টি আমাদের দলেই ঘাপটি মেরে বসে আছে, তাদের কাছ থেকে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। যারা এ দেশের দেবত্তর সম্পত্তি খেয়েছে, মসজিদের যায়গা দখল করেছে তাদেরকে আপনারা আগামীতে নির্বাচন করবেন না। আমরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম, যদি আপনাদের সাহস থাকে তাহলে কোথাও একটা ঘটান ঘটানের চেষ্টা করেন। আপনাদের হাত কেটে বাংলাদেশ থেকে বিতারিত করবো।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মাহনগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীল বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই নারায়ণগঞ্জবাসীদে। কারন যখন সারা দেশ কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে উত্তেজিত তখন নারায়ণগঞ্জবাসী শামীম ওসমানের আহ্বানে আরও একার প্রমান করেছে যে, নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোন ঘাটতি নেই। ওসমানে পরিবারের নেতৃত্বে আগেও এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেয়া হয়েছিলো এবারও তাই হয়েছে ভাইয়েরা আমার। এবার আমাদের হিন্দু মুসলমান ভাইয়েরা এক সাথে মিলে দুর্গাং পূজাকে সুন্দরভাবে পালন করেছেন। কোন রকমের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে নাই এবং ঘটবেও না।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে অনুরোধ জানাবো সব সময় সজাগ থাকবেন, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা একটি অত্তন্ত পরিকল্পিত দেশিও এবং আন্ত্রজার্তিক একটি ষড়যন্ত্র। এটা শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফেলে দেয়ার চক্রান্ত নয়, এটা বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট হিসেবে পরিনত করার চক্রান্ত। আমরা যারা আওয়ামীলীগ করি, আমরা সকলে মিলে কাধে কাধ মিলিয়ে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবো।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মাহনগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, বাংলাদেশে একটি শব্দ ব্যবহৃত হয় ‘সংখ্যা লঘু’। এই শব্দের সাথে আমি এক মত নই। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়তে যেয়ে ১৯৬৪ সালের রায়টের পর বংঙ্গবন্ধুর যে ছয় দফা ছিলো সেখানেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে মুক্তিযুদ্বের স্বপ্ন রচনা করেছিলেন বাংঙ্গালীর হৃদয়ে। তাই আমি মনে করি ‘সংখ্যা লঘু’ শব্দ ব্যাবহার করে শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ছোটই করা হয়না, সাথে তাদেরকে মানসিক ভাবে দূর্বল করা হয়। কারণ বঙ্গবন্ধু যখন এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন তখন হিন্দু, মুসলমান, বোদ্ধ, খৃষ্টান সকলে কাধে কাধ মিলিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যে যাই হোক আমাদের একটাই পরিচয় যে, আমরা বংলাদেশের মানুষ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশে ‘সংখ্যা লঘু’ বলে কোন শব্দ নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। আজকাল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীর করার পায়তারা চলছে। আমি তাদের বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জের মাটিতে আমরা জনেনতা শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অতিতে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার বলেন, আমাদের পূজা চলাকালিন কুমিল্লার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানান বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ গর্জে উঠেছে। আমরা আজ প্রমান করে দিবো যে নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িকতার ঠাই নাই।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু ঠেকদারী নেতা আছে যাদের আমরা এমন একটা সময়ে দেখলাম না। তারা দেবত্তর সম্পত্তিও খায় এবং বড় বড় কথা বলে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করবো, যারা মৃর্তি ভাঙ্গসে তাদের যদি গ্রেফতার করেন তাহলে দেবত্তর সম্পত্তি যারা খায় তাদেরকেও নমিনেশন দিবেন না।

এছাড়া উক্ত সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলী, কৃষকলীগ ও তাতী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।