শামীম ওসমান ডাক দিলে বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হবো: শাহ নিজাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেছেন, আজকের বিজয়ের মাসে আনন্দ করবো, ফুর্তি করবো, নাচ গান করবো, স্মৃতিচারণ করবো। আমরা সম্মানিত করবো যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের সুন্দর একটা বাংলাদেশে দিয়েছেন জাতির পিতার নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলো একটা ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। যেখানে বাঙ্গালী জাতি মাথা উঁচু করে দাড়াবে। আজকে বিজয়ের মাসে সেই কথাই বলার কথা। কিন্তু আজ বলতে হচ্ছে ১০ তারিখ বিএনপি সমাবেশ। কিসের সমাবেশ এটা? ওরা বলে গণতন্ত্রের কথা, দেশের কথা। ওরা কোন গণতন্ত্রের কথা বলে? যে মুজিব ফাঁসির মঞ্চে আপস করেন নাই। সেই বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের মানুষকে কলঙ্কিত করেছে সারাবিশ্বে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বন্দর উপজেলার বন্দর খেয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ‘বিএনপি সমাবেশের নামে সন্ত্রসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদী ব্যানারে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শাহ নিজাম বলেন, ওরা (বিএনপি) নাকি ১০ তারিখে দেশ চালাবে। কে চালাবে খালেদা নাকি তারেক? দুটিই তো আসামী। একজন এতিমের টাকা মাইরা খাইছে, আরেকজন বাংলাদেশের মানুষের টাকা মাইরা খাইছে। খাম্বা তারেক নামে পরিচিত। হাওয়া ভবনে বসে খাম্বা বিক্রি করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। সেখানে ডিস্কোতে যাচ্ছেন, নাচ গান করছে আর বোকারা বাংলাদেশে বসে বড় বড় কথা বলছেন। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যর পরিবর্তনের কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা, মুক্তির কথা বলেন। বাংলাদেশের মানুষ এতো বোকানা না, খায় না (মূল্যহীন কথা) এগুলা। যদি খাইতো তাহলে বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের দায়িত্ব দিতো না। দায়িত্ব দিয়েছে বলেই প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা সকাল থেকে রাত অব্দি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আপনারা (বিএনপি) মানুষের অধিকারের কথা বলেন। এইতো ২০১৩-১৪ সালের কথা, সারা বাংলাদেশে আগুন সন্ত্রাস করেছেন ২৩১টি নিরহ মানুষকে হত্যা করেছেন। যারা জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়েছিলো। আপনারা ১০৮০জন মানুষকে বিভৎস ভাবে পুড়িয়েছেন, ২০১৯টা গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করেছেন, ১৮টি রেলগাড়ি পুরিয়েছেন, ৭০টি সরকারি অফিস পুড়িয়েছেন, ৫টি ভূমি অফিস পুড়িয়েছেন, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুয়েছেন। আপনারা এগুলা করবেন আমরা বিশ্বাস করি। আপনারা ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে বাংলাদেশকে বুদ্ধিশূণ্য করতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলছি ২০১৩-১৪তে আগুন সন্ত্রাস করিয়েছেন, ছেড়ে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, কুকুর কামড় দিলে কুকুরকে কামড় দিতে নেই। আমরা দেই নাই। কিন্তু আগামী যদি এমন কিছু করতে চান তাহলে আমরা ভেবে নিবো এটা পাগলা কুকুর। আর পাগলা কুকুর কামড় দিলে তাকে মাথায় বাড়ি দিয়ে হত্যা করতে হয়। তাই আমি যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন আমি সবাইকে অনুরোধ করবো। বঙ্গবন্ধুর সুরে সুর মিলিয়ে বাঁশের লাঠি তৈরী করো। শত্রুপক্ষ ক্ষতম করো। যদি কুকুর মাথা খারাপ করে তাহলে মাধায় আঘাত করে ওদের হত্যা করতে হবে। এমনভাবে আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

শাহ নিজাম বলেন, শামীম ওসমান ডাক দিলে আমরা সকাল হোক রাত হোক বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হবো। যদি দেশে অসাম্প্রদাকি ভাবে, অগনতান্ত্রিক ভাবে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাদেরকে প্রতিহত করবো।