শামীম ওসমা‌নের যে কথায় কাঁদ‌লো জনতা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হঠাৎ করে দেখলাম দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এটার মানে কি? মানেই তো বুঝি না। আমার বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন আমার মা। রাজনৈতিক পরিবারের কন্যা। বাবাতো চলে গেছে সেই ২৪ মার্চেই। আমি দেখলাম সব মুক্তিযোদ্ধারা পাগলের মতো মায়ের পায়ে সালাম করে বলছেন ‘ভাবি দোয়া করেন, যাতে দেশের জন্য জীবন দিতে পারি।’ আমি অবাক হলাম। এই মানুষ গুলির হইলোটা কি? সবাই জীবন দিতে চায় কেন? আম্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম সবাই মরতে চাচ্ছে কেন? আম্মা বললেন ‘ওরা স্বাধীনতা চায়।’ জীবন দিতে যায়। কি উন্মাদনা, কি খুশি। কেন? দেশের জন্য জীবন দিবে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ ভাবেই কথা গুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এসময় লাখ শামীম ওসমান অনুসারী আবেগে আপ্লত ছিলেন। কেদেছিলেন শামীম ওসমানও।

শামীম ওসমানের ভাষ্য মতে, ‘আমি মাকে বলেছিলাম স্বাধীনতা মানে কি? মা বলেছিলেন স্বাধীনতা মানে শেখ মজিব আর শেখ মুজিব মানেই স্বাধীনতা।’ আমি বললাম ও তাই। যেদিন ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটলো, যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আপনার জন্য, আপনার জন্য, এই আপনাদের জন্য, সাড়া জীবন লড়াই করেছি, তাকে আমরা মেরে ফেললাম। অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে পরিনত হলাম। এই কলঙ্ক হয়তো আমরা জীবনেও মুছতে পারবো না। আল্লাহর হুকুমে, রসূলে পাকের উসিলায় আর সমস্ত জনগণের দোয়ায় সেদিন হয়তো বা হিমালয় পরবত বুকে চাপা দিয়ে দুটি বোন বেঁচে গেছিলেন।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘তখনও আমি বুঝি না। বাবা জেলখানায়, বড় ভাই নাসিম ওসমান হাতে অস্ত্র তুলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইলেন। মেঝু ভাই সেলিম ওসমানকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ধরে নিয়ে রেডিও বাংলাদেশের অফিসে নির্মম ভাবে অত্যাচার করলো। জলন্ত সিগারেটের আগুনে বুকের মধ্যে ৪৮ টা ছিদ্র করা হলো। বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনি পরিবার গুলোর একটা পরিবারের সন্তান হয়েও ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে আরাম্ভ করে ৭৯ সাল পর্যন্ত এক বেলা ভাত খেয়েছিতো ২ বেলা খাই নাই। বড় বোনের বিয়ে দিয়েছি মসজিদের ভিতরে। এত কষ্টের পরেও আমার পরিবার মাথা নত করে নাই।’

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘১৯৮১ সাল। দেশে ফিরলেন ৩১ বছর বয়সী নারী। কি ওই মহিলা? ওই মহিলা হচ্ছে, যার বাবাকে আমরা মেরেছি, যার মাকে আমরা হত্যা করেছি, যার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছি। সেই পরিবারের সদস্য, বেঁচে থাকা ২ জনের ১ জন। নাম তার শেখ হাসিনা। আমরা গেলাম সেদিন। লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রচুন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। কেন ফিরে ছিলেন? শুধু কি বাবার হত্যাকারিদের বিচারের জন্য? না সে জন্য ফিরে নাই। তিনি হত্যা কারিদের হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতার বদল চান নাই। উনি চেয়েছেন, যে কারণ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, সেই স্বপ্ন প্রতিষ্ঠা করতে।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলীয় নের্তৃবৃন্দের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন সহ অন্যান্যরা।

এর আগে শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্থানীয় নেতারা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে এসে শামীম ওসমানের সমাবেশে এসে যোগ দেন। এসময় জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রায় লাখো মানুষের সবাবেশ ঘটে এ জনসভায়।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সভামঞ্চ সহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় জেলা পুলিশ প্রশাসন। পোশাকে ও সাদা পোশাকে সভামঞ্চ ঘিরে রাখে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা।

0