শিশু পুত্রকে ৪ তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা, আটক মা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজের গর্ভের দেড় বছর শিশু পুত্রকে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত মা রোকসানা আক্তারকে পুলিশ আটক করেছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দুপুরে এ ঘটনার পর ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে রাত সাড়ে দশটায় পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মা রোকসানা আক্তারকে আটক করে। পরে বিষয়টি চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভীড় জমে।

নিহত শিশুটির নাম আশফাক জামান জাহিন।

শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান মারুফ জানান, গত চার থেকে পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার রোকসানা আক্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্ত্রী রোকসানা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করেও তার অবস্থার কোন উন্নতি হয় নি। এভাবেই চলছিল তাদের অস্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন।

নুরুজ্জামান মারুফ আরও জানান, সোমবার দুপুরে তার বড় মেয়ে অর্পার মোবাইল ফোন পেয়ে শহরের চাষাড়ায় পপুলার হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী রোকসানা তাদের দেড় বছরের শিশু পুত্র জাহিনকে বাড়ির ছাদ থেকে নীচে ফেলে দিয়েছেন। পপুলার হাসপাতালে নেয়ার পর সেখান থেকে জাহিনকে নিথর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়ীতে খন্দকার নুরুজ্জামান মারুফ তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাদের মধ্যে রোকসানা আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশু জাহিনকে তার মা রোকসানা আক্তার (২৮) ফেলে দেন। সন্ধ্যার সময় বিষয়টি জানতে পুলিশ অভিযুক্ত রোকসানাকে গ্রেফতার করেছে।

ওসি আসলাম হোসেন আরো জানান, যদিও নিহত শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগী। নিজের অজান্তেই হয়তো তিনি এ কাজটি করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সেটা দাবি করা হচ্ছে। স্বজ্ঞাণে কখনো একজন মা এই কাজ করতে পারেন না। তবে আইনের কাছে সব অপরাধীই সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

ওসি আসলাম হোসেন আরও জানান, এ ঘটনায় নিহত শিশু জাহিনের বাবা বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই মোতাবেক মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

0