শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডু‌বি: রাতারা‌তিঘাতক জাহা‌জের রং বদলে ফেলা হয়েছে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সাবিত আল হাসান’ ডুবির ঘটনায় ধাক্কা দেয়া ঘাতক কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ এর রং বদলে ফেলা হয়েছে। তবে জাহাজটির সামনের অংশের বাংলা ও ইংরেজিতে ‘এসকেএল-৩’ লিখাটি এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ২টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া নয়ানগর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে জাহাজটি আটক করে পাগলা কোস্টগার্ড ইউনিট। রং বদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার বজলুর রহমান।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরই জাহাজটি আশপাশের কোনো একটি ডকইয়ার্ডে উঠে গিয়েছিল। সেখান থেকে রং বদল করে পরবর্তীতে আবার নদীতে নামানো হয়। বৃহস্পতিবার জাহাজটি নদীতে ভাসতে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরিচয় লুকাতে জাহাজের রং বদল করায় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজে সে জাহাজটির বেশির ভাগ অংশে নীল রং থাকলেও বর্তমানে সে নীলের স্থলে ধূসর রং করা হয়েছে। তবে জাহাজটির বিভিন্ন অংশে প্রলেপ দেয়া ধূসর রংয়ের মাঝেও আগের নীল রংয়ের চিহ্ন দেখা যায়। একই সঙ্গে জাহাজের সামনের অংশে নামের নিচের এম-০১-২৬৪৩ লেখাটি ছিল। তবে আটকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হয়নি অভিযানকারী দল। লঞ্চ দুর্ঘটনার চারদিন পর বৃহস্পতিবার কার্গো জাহাজটি আটক করা হয়। এসময় আটক করা হয় জাহাজের ১৪ কর্মচারীকেও। তবে তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সার্বিক বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান অভিযানকারী দলের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জে যাচ্ছিল এমভি সাবিত আল হাসান লঞ্চটি। মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সোয়া ৬টার দিকে এস.কে.এল-৩ নামে একটি কর্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায় লঞ্চটি। এসময় লঞ্চের দোতলা ও ছাদে থাকা যাত্রীদের একটি অংশ সাতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও নিচতলার যাত্রীরা পানিতে তলিয়ে যায়। এই ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

0