শেখ হাসিনাকে হারালে দেশ পথ হারাবে: শামীম ওসমান

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিএনপি বাংলাদেশের বাজেট ৬০ হাজার কোটি টাকা রেখে গেছে আর এখন আমার নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বাজেট দিয়েছে ৬০ লাখ কোটি টাকা। এখানেই পরিবর্তন। তাই কালকে নেত্রী বলেছেন, উন্নয়ন যদি চোখে না পরে, তাহলে চোখের ডাক্তার দেখান। উন্নয়ন যা হওয়ার হয়েছে, শেখ হাসিনা থাকলে আরও হবে। এখন শেখ হাসিনাকে হারালে চলবে না। শেখ হাসিনাকে হারালে দেশ পথ হারাবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকালে এ কথা বলেন একেএম শামীম ওসমান।

এর আগে দুপুরে কোরআন তেলওয়াতের মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ ও প্রথম সভা শুরু হয়। এরপর নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা। নির্বাচিতরাও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, হোটেল গুলোতে দেখবেন, বড় বড় তাওয়া আছে। সেই তাওয়া সকালে উঠে দোকানীরা গরম করে। গরম হতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। গরম হওয়ার আগে নাস্তা দিতে পারবে না। গরম হয়ে গেলে দ্রুতই হয়ে যায়। বিএনপি নেতারা হচ্ছে সেই তাওয়া। আপনাদের গরম মারছে। আপনাদের তাওয়ার উপর অন্য মানুষের খেলা হবে, যারা বাংলাদেশের নির্বাচনে জীবনে পাশ করতে পারেনি। এরা খেলছে। বিএনপি এখন ২টা গ্রুপে ভাগ হয়ে গেছে। একটা আম্মা গ্রুপ আর একটা ভাইয়া গ্রুপ। ভাইয়া গ্রুপ ২৪ সালের নির্বাচনের চিন্তা করে না। তাঁদের টার্গেট ২০২৮ সালের নির্বাচন। ভায়া এখন মায়ের চিন্তা করে না, দেশের চিন্তা কি করবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ১৩, ১৪ ও ১৫ সালে ৩ হাজার ৫৫২টি গাড়ি পুড়িয়েছে, ২৯টি রেল গাড়ি পুড়িয়েছে। ৯টি লঞ্চ পুড়িয়েছে। ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে, ৬টা ভূমি অফিস পুড়িয়েছে। ৭০টি বিভিন্ন সরকারি অফিস পুড়িয়েছে, ৩ হাজার ৩৬ জন সাধারণ মানুষের শরীরে আগুন দিয়েছে, তাঁর মধ্যে ৫০০ জনের বেশি মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ২৬ হন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই দিনে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করেছে। কে করেছে এ গুলো? উনাদের নেতা তারেক রহমান। যিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী, উনি অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরা চালান মামলার আসামী।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. শামসুল আলম ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু প্রমুখ।