শ্রমিকলীগ নেত্রীর মামলায় যুবদলের সহ-সভাপতির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

0

বন্দর করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
বন্দর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতির বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় যুবদলের সহসভাপতি নাজমুল হক রানা বাড়িতে ছিলেন না। জমি জবর দখলের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে মারধর করার মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার অভিযান চালায়।

জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জেলা শ্রমিকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নেত্রী হাসিনা রহমান সিমু ও তার পরিবারের লোকজনদের মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামী করা হয়েছে মহানগর যুবদলের সহসভাপতি নাজমুল হক রানা, তার ভাই রাজিব, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মোস্তাক, ফরিদ, মনির, মঈন, সালাম, রানাসহ প্রায় ৪০ জন। গত বৃহস্পতিবার বন্দরের বাগবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকলীগ নেত্রীর মা বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ব্যপারে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি নাজমুল হক রানা জানান, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি দখল করতে আসে হাসিনা রহমান সিমু ও তার পরিবারের লোকজন। এসে জমিতে থাকা তাদের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে এবং সিমুদের সাইনবোর্ড লাগায়। সে সময় বন্দর ভূমি অফিসের কানুনগোর সামনেই এসব ঘটে। সেখানে মারধরের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। হাসিনা রহমান সিমুর মা ফেরদৌসী রহমান শেলী তার দুসম্পর্কের ভাগ্নি হয় বলেও জানান রানা।

এদিকে মারধরের ঘটনা তার উপস্থিতিতে ঘটেনি জানিয়ে বন্দর ভূমি অফিসের কানুনগো মো. মামুন হোসেন বলেন, এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে জমির অবস্থা জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। ওই জমি একজনের নামজারী হলেও দাবি করছে অন্যপক্ষ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে সেখানে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যপারে শ্রমিকলীগ নেত্রী হাসিনা রহমান সিমুর মা ফেরদৌসী রহমান শেলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর বাগবাড়ি এলাকায় আমাদের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি রানা জোর করে দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেয়া সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে আমাদের জমির উপর সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে আমরা বাঁধা দেই। এ সময় রানা, রাজিব, মোস্তাক, মাইচ্ছাপাড়ার রানাসহ অনেকে আমাদের উপর হামলা করে। রানার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমার ছেলে মতিউর রহমান শান্তকে কপালে ও শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে এবং রাজিবের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমার আরেক ছেলে মশিউর রহমান শুভকে আহত করে। মোছতাক ও মাইচ্ছাপাড়ার রানার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার মেয়ে হাসিনা রহমান শিমু ও মাজরিয়া মেহেজাবিনকে এলোপাথারি ভাবে পিটিয়ে আহত করে।

তিনি আরও বলেন, নাজমুল হক রানার দাদা মতিউর রহমান ও দাদি হাবিবুন নেছা ১৯৪৯ সালে ১২৪ শতক জমি ক্রয় করে। পরে তারা লতিফ হাজী ও মোতালেব সরদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে লতিফ হাজী ও মোতাভের সরদার বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এখন রানা ১৬ শতক জমি দাবি করে আমাদের ক্রয়কৃত জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। প্রকৃত পক্ষে আমরা পৈত্রিক সূত্রে জমি মালিক আমদের অভিবাবকরা হাজী সিরাজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া ও সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেন। আমরা প্রায় অর্ধশত বছর যাবত ভোগদখলে আছি।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি নাজমুল হক রানা বলেন, ওই জমি আমার দাদার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি। ওই জমির মালিকানা দাবি করতেছে সিমুর মা। পুরোটাই জবরদখলের পায়তারা তাদের। মারধরের কোন ঘটনাই ঘটেনি অথচ মামলা করে দিছে। বন্দরের সবাই সিমু ও তার পরিবার সম্পর্কে জানে। সিমুর বিভিন্ন জায়গায় লিংক আছে, তারই জোরে এই জমি দখল করতে চাচ্ছে তারা।

রানা বলেন, ১৯৪৯ সালে ক্রয় করার পর তার দাদার আমল থেকে ১৬ শতাংশ পরিমাণ ওই জমি ভোগ করছি। কিন্তু ৫ বছর আগে ওই জমির দাগে সিমুদের অংশ আছে বলে দাবি করে। তখন থেকেই তাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ। কিন্তু জমির সকল কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। এমনকি জমির রেকর্ডও আমাদের নামে। আমি গত দুই মাস আগে মিটিশনের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করলে সিমুরা অবজেকশন দেয় যে, ওই জমি তাদের।

তিনি আরও বলেন, এমনিতেই বিএনপি করি তা নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি। তার উপরে আমাদের জমি দখলের জন্য আমাদের উপরেই মামলা করছে। আমি এই মামলার জামিন নিয়ে আপনাদের সবার সাথে কথা বলবো। প্রেস ক্লাবে কনফারেন্সও করবো আমি। সিমু ও তার পরিবারের তাদের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করতে চাচ্ছে।

0