সজল-তানভীর নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে অচল হতে পারে শহর!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নাজমুল আলম সজল ও তানভীর আহম্মেদ টিটু। একজন ব্যবসায়ীনেতা ও জনপ্রতিনিধি, অপরজন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক। এই দুই জনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তা না হলে শহর ও শহরতলীর বাস, ট্রাক, দোকানপাট সব কিছুই বন্ধ করে দেয়া হবে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাঁনমারী এলাকায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়ে এক সভায় ওই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।। আসন্ন রমজান উপলক্ষে দোকান মালিক ও পরিবহন শ্রমিক মালিকদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। খালেদ হায়দার খান কাজলের সভাপতিত্বে সভায় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টির পরিচালকগন উপস্থিত ছিলেন।

সভায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ হোসিয়ারী সমিতির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সমিতির সাধারন সম্পাদক তানভীর আহম্মদ টিটুকে নিয়ে নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারিদের শাস্তি দাবি করা হয়। সেই সাথে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে যারা কাজ করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়।

এছাড়াও চেম্বার সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ২৪ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “এ সময়ের মধ্যে যদি ক্ষমা চাওয়া না হয় তাহলে সমস্ত দোকানপাট, বাস, ট্রাক সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে।” তিনি বলেন “টিটু চেম্বারের পরপর দুইবার পরিচালক ছিলেন, একজন ভদ্র ছেলে হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। অথচ তাকে নেক্কারজনকভাবে মদ ব্যবসায়ী বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। ভদ্রকে অভদ্র বানানো হচ্ছে।”

খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, “সজল একজন জনপ্রিয় নেতা, তাকেও কিডন্যাপার বানানো হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

এদিকে সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন চেম্বার সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল। শহর অচল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘দোকানপাট, বাস, ট্রাক বন্ধ মানেই তো শহর অচল। এগুলো তো আন্দোলনেরই অংশ। এ সিদ্ধান্ত প্রথমিক, চূড়ান্ত নয়।’

সেই সাথে তিনি জানান, বুধবার আমরা চেম্বারের অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি সংগঠনের দুইজন করে প্রতিনিধি নিয়ে বসবো। সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করবো।

তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। কালকের সভার পর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত দাবি জানাবো। এরপরও যদি তারা আমাদের দাবির ব্যাপারে উদাসিন হয় তবে, আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবো। সে ক্ষেত্রে আন্দোলনের ধরণ কি হবে তা বুধবারের সভাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কাজল বলেন, আমরা সভা যখন করছিলাম তখন পুলিশের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাই। সেখানে পরিকল্পিত ভাবে তাকে তানভির আহম্মেদ টিটুকে জড়ানো হয়েছে। যা আমাদের বিস্মিত করেছে। আমরা লক্ষ্য করছি নারায়ণগঞ্জে অশান্ত পরিবেশ সৃস্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে পাগলা মেরী এন্ডারসনে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করা হয়। সে সময় ৬৮জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মঙ্গলবার পুলিশ সুপার কার্য্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং জানানো হয়, ‘বারের মালিক সঞ্জয় নারায়ণগঞ্জক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা করেন তানভীর আহম্মেদ টিটুর সহযোগিতায়।‘

0