সহযোগীতা করতে গিয়ে হাজতে সা‌বেক এম‌পি পুত্র কাউন্সিলর

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পুরুষ কন্ঠে ভেসে আসছে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ শব্দ। চিৎকার শুনে ভবনে জড়ো হচ্ছিলো এলাকাবাসী। এরই মধ্যে জনতার কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল। সকলেই যখন সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছে, তখনই জন্ম নিয়েছে বিপত্তির। উদ্ধারকারী কাউন্সিলরসহ ১০ প্রতিবেশীকে করতে হয়েছে কারাবরণ।

বুধবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকার প্রবাসী কালুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশসূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-২ আসনের এমপি সেলিমা আহমেদ মেরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সোহেলের চাচাতো বোন সালাম বেগম ও তার স্বামী হাফেজ আহমেদ সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকার কালুরবাড়ির চার তলায় ভাড়ায় বসবাস করেন। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে পারিবারিকবিষয়ক নিয়ে একাধিকবার ঝগড়া হয়।

ওই ঝগড়া সমাধানের জন্য সোহেল রাত সাড়ে ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জে এমপি সেলিমা আহমেদ মেরী, তার চাচা ও সালমার বাবা জয়নাল আবেদীনসহ তার নিকটাত্মীয়দের নিয়ে আসেন।

এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করেই ওই বাড়ির ৪ তলা থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচও’ চিৎকার শুনে এলাকাবাসী জড়ো হয় নিচে। ঠিক ওই সময় তারাহুড়া করে বেড়িয়ে আসছিলেন এমপি সেলিমা আহমেদ মেরীসহ তার লোকজন। স্থানীয় কাউন্সিলর সাদরিল ঘটনা কি? জানতে চায় মেরীর কাছে। এসময় বাহিরে গিয়ে এলাকাবাসীকে অস্ত্র বের করে ভয় দেখালে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এঘটনায় মেরীকে বহনকারী গাড়িটির কাঁচ ভাঙচুর চালায়।

এদিকে এমপির গাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ। আটক করা হয় কাউন্সিলর সাদরিলসহ ১০ জনকে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জসিমউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের এমপি সেলিমা আহমেদ মেরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সোহেল। এতে এনসিসির কাউন্সিলর সাদরিলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

0