সিঙ্গেল চুলা ১৩৫০ ও ডাবল চুলা ১৪৪০ টাকা করার প্রস্তাব: ‘দুর্নীতির দায় জনগণ নেবে না’ বাসদ

0

প্রেস বিজ্ঞপ্তি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় গাবতলী-পুলিশ লাইন মোড়ে মানববন্ধন ও এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় আরও জানানো হয়, বাসদ গাবতলী-পুলিশ লাইন শাখার সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম শরীফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, বাসদ গাবতলী-পুলিশ লাইন আঞ্চলিক শাখার নেতা হাসনাত কবীর, খুরশীদ আলম, মোফাজ্জল হোসেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন যুক্তি ছাড়াই গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে সরকার। বিগত নির্বাচনের পরে জ¦ালানী প্রতিমন্ত্রী মিডিয়ায় দাম বাড়ানোর অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ ২০১৯ বিইআরসির গণশুনানির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সবগুলো গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লাভজনক অবস্থায় আছে। গণশুনানিতে গ্যাস কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারে নাই।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, এক বার্নারের ক্ষেত্রে ৮৫ ঘনমিটার এবং দুই বার্নারের ক্ষেত্রে ৯২ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের দাম নেয়া হয়। কিন্তু তিতাস গ্যাস কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী এক বার্নারে গ্যাস সরবরাহ হয় ৪৫ ঘনমিটার এবং দুই বার্নারে গ্যাস সরবরাহ হয় ৪৭ ঘনমিটার। অর্থাৎ গ্যাসের দাম নেয়া হয় দ্বিগুণেরও বেশি। গণশুনানিতে তিতাস সব ধরনের গ্যাসে গড়ে ১০২.৮৫% বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, এতে গৃহস্থালিতে সিঙ্গেল চুলা ১৩৫০ টাকা ও ডাবল চুলা ১৪৪০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। সারাদেশে গৃহস্থালিসহ শিল্প কারখানার জন্য পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ নেই। বিকল্প হিসাবে মানুষ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে জেলায়, উপজেলায় বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ১২ কেজির ১টি সিলিন্ডারে গ্যাস থাকে ১৬ ঘনমিটার। বর্তমানে সিএনজি পাম্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি হয় ৩৮ টাকায়। তাহলে ১ সিলিন্ডার গ্যাসের দাম হওয়ার কথা ৬০৮ টাকা। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০০/১২০০ টাকায়। এসব বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নীরব ভুমিকা পালন করে। অথচ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এর দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু কমিশন ও সরকার গ্যাস কোম্পানিগুলোর স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৎপর হয়েছে।

 

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের ভুলনীতি ও দুর্নীতির দায় জনগণ নেবে না। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিদেশি কোম্পানিদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এই বিদেশি কোম্পানিরাই মাগুরছড়া ও টেংরাটিলায় অগ্নিকা- ঘটিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে। মেরুদ-হীন সরকার ঐক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণও আদায় করতে পারেনি। গ্যাসের দাম বাড়ালে সমস্ত নিত্য পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, গাড়িভাড়া বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। নেতৃবৃন্দ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

0