সিটি নির্বাচনে মেয়রসহ ২৭টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থী দি‌বে চরমোনাই পীর

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুহা. নুর হোসেন ও সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের মাধ্যমে সূচনা হয়। যার শুরুটাই হয়েছে রাজপথে তাজা রক্ত বিসর্জন দিয়ে, ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সে দল কখনই কারো তাবেদারি করতে পারে না। বর্তমানে প্রচলিত অপরাজনীতির গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে বহু আগেই এম.পি মন্ত্রী থাকত এ দলের অনেক নেতাকর্মী। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনই তার নীতি ও আদর্শের জলাঞ্জলি দেয় নাই, ভবিষ্যতেও দিবে না ইনশাআল্লাহ। কারণ আমাদের লক্ষ্য শুধুই কোন ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানো নয়, বরং ইসলামের সুমহান নীতি আদর্শ দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে ঢেলে সাজিয়ে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে কোন অসহায় মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করবে না। থাকবে না কোন চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, রাহাজানি ও ধর্ষণ। অথচ আজ ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার জন্য কত কিছুইনা করছে মানুষ! কারণ ক্ষমতা হারালে তো আর জনগণের সম্পদ চুরি করা সম্ভব হবে না। বন্ধ হয়ে যাবে সকল দুর্নীতি।


বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুহা. নুর হোসেন ও সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ এক যুক্ত বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করতেই বিগত সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে চরমোনাই পীর সাহেব হুজুরের এ সংগঠনের উপর। গত ১১ নভেম্বর ২০২১ কাশিপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে বিভিন্ন হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়। তারপরও ১২ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে হাতপাখা প্রতীকে। এটা জনগণের ভালবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাছাড়াও চরমোনাই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জোট করার পরও হাতপাখার দূর্গ ভাংতে পারেনি। ৩৫৫০ ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হয়েছে হাতপাখা। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। লক্ষীপুরে চরকাদিরা ইউনিয়নে পরপর ২ টার্ম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ। বরিশাল জাগুয়া ইউনিয়নে, মাগুরা সত্যজিৎপুর, কুড়িগ্রাম চরভুরুঙ্গীমারি ইউনিয়নে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রার্থী।

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরাবরের মত এবারও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মুফতি মাসুম বিল্লাহ’র নাম রয়েছে। তাছাড়াও সিটি নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কারো রক্তচক্ষু, হুমকি-ধমকি ইসলামী আন্দোলনের গতিপথকে রুদ্ধ করতে পারবেনা, ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলনের এ সফলতা ও জনপ্রিয়তা দেখে অনেকেই হিংসার আগুনে জ্বলছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মিথ্য ও অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে। যত্তসব বানোয়াট ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে জনগণের মাঝে বিবেধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি ওই সকল ভাইদের আহবান জানাই ইসলামী আন্দোলনের সুশীতল ছায়াতলে এসে নিজের জীবন ধন্য করি এবং আধুনিক কাল্যাণরাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শরীক হই।