সিদ্ধিরগঞ্জে যৌতুক মামলায় প্রবাসী স্বামীর কারাদন্ড ও জরিমানা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীর দায়েরকৃত যৌতুক মামলায় প্রবাসী স্বামীকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এছাড়াও অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন- সোনারগাঁও থানার পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার মো. হযরত আলী ওরফে ফুলচান এর ছেলে মো. আমান উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে সাক্ষিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলম এ রায়ের ঘোষণা দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে স্বশরীরে আমার উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই বাদীনি মোসা. জান্নাতুল শ্রাবনীর (২১) সাথে আসামী মো. আমান উল্লাহ’র বিবাহ হয়। বিবাহের দেনমোহর ৫ লাক্ষ টাকা ধার্য্য করা হয়। বিবাহের সময় বাদীনির মা বাদীনিকে সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালষ্কার ও ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র দিয়ে দেয়।

বিবাহের কিছুদিন পরে ৩ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে যৌতুকের দাবী করে ৬ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু এতো টাকা-পয়সা নেওয়া পরও বাদীনির শারীরিক ও মানসিক শান্তি পায়নি।

কিছুদিন পর পরই বাদীনিকে যৌতুকের জন্য অমানবিক মারপিট করে দফায় দফায় যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করত। বাদীনি সংসারের দিকে তাকিয়ে এভাবেই জীবন যাপন করছিল।

তারপর ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টার সময় বাদীনিকে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে মারপিট করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এরপর বাদীনির স্বামী মো. আমান উল্লাহ বাদীনিকে না বলে ওই বিদেশ চলে যায়।

তবুও সংসার ঠিকানোর জন্য বাদীনি নিজ ইচ্ছায় শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে সকলের সেবা যত্ন ও খেদমত করত। কিন্তু যৌতুক লোভীরা স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাদীনিকে দূর দূর করে তারিয়ে দেয়। সে সময় বাদীনি স্বামীকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এরপর বাদীনির সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনা তিনি। চুপে চাপে বাদীনির স্বামী দেশে এসে পুনরায় বিবাহ করার চেষ্টা করে। বাদীনি তা জানতে পেরে মামলা করা ভয় দেখিয়ে শালিস বৈঠকে আপোষে মিমাংসা করার অনুরোধ জানানোর পর সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২৪ জানুয়ারী বিকাল ৪ টায় সময় বাদীনির পিত্রালয়ে ইন্টারনেটে টেলিফোনে ইমুর মাধ্যমে সরাসরি সকলের উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দিলে বাদীনিকে নিয়ে সংসার করবে, অন্যথায় অন্যত্র বিবাহ করবেন বলে জানান। পরে গোপনে আবার বিদেশ চলে যায়।

এবিষয়ে বেঞ্চ সহকারী জাকির হোসেন বলেন, সাক্ষিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক প্রবাসী স্বামীকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে বিজ্ঞ আদালত।

0