সেই ‘বড় হুজুর’ ৫ দিনের রিমান্ডে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের হোটেল বা লঞ্চের কেবিনে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় সেই ‘বড় হুজুর’কে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উঠানো হয়। পরে শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউসার আলম ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত ‘বড় হুজুর’ ফতুল্লার ভুঁইগড়ের দারুল হুদা আল ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।

চার ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার তাকে আটক করেছিল র‍্যাব। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ শিশুসহ ছয়জনকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আরও পাঁচটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ও নিপীড়নের অভিযোগ আনেন।

র‌্যাবের দাবি, ‘বড় হুজুর’ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, শিশুশিক্ষার্থীদের বোঝাতেন—শিক্ষকের সঙ্গে সফর করা শিক্ষার্থীদের কর্তব্য। এ ধরনের কথা বলে শিশুছাত্রীদের নিয়ে যেতেন মাদ্রাসার বাইরে। নিয়ে যেতেন হোটেলে বা লঞ্চের কেবিনে। সেখানে ধর্ষণ করতেন তাদের। তাঁর নির্যাতনের শিকার শিশুদের বয়স ৮ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

এ ছাড়া মনগড়া ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে বিয়ের নামে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন, পরে আবার নিজের ব্যাখ্যা দিয়ে তালাক বলে বিদায়ও করে দিয়েছেন।র‌্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বলেন, শয়তানের তাড়নায় তিনি এসব অনৈতিক কাজ করেছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। এরপর ৪ জুলাই এক ছাত্রীর অভিভাবকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। পরে তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক শিশুকে ধর্ষণ ও নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

0