সেই ‘লজ্জার স্থান’টিই হবে না.গঞ্জবাসীর আগামীর গর্ব!

0

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘এ লজ্জা আমরা রাখবো কোথায়?’, ‘ নারায়ণগঞ্জের লজ্জা ঢাকলেন শামীম ওসমান’, ‘এ লজ্জা ঢাকিব কেমনে?’। এমনই সব শিরোনামে ২৬ অক্টোবর স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ময়লা সমস্য নিয়ে সংবাদ।

এই সমস্যার সমাধান চায় সকলেই। কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। আবার কেউ কেউ আঙ্গুল তুলেন স্থানী সরকার মন্ত্রনালয়ের একটি সংস্থার দিকেও। সম্যসার সেই লজ্জার স্থানটি নিয়ে আর বিব্রত হবে না কেউ। এ লজ্জার স্থানই শীঘ্রই হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর গর্বের স্থান!

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন ওই স্থানটি দিয়ে শুরু হচ্ছে বুলেট ট্রেন চলাচলে উপযোগি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন শীর্ষক একটি সমীক্ষাও মন্ত্রনায়লে জমা পরেছে। অনুমোদন পেলেই, জালকুড়ি ও ফতুল্লার মাঝামাঝি ওই স্থানটি দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬‘শ ফিট প্রস্থ একটি আর্জাতিক মানের ষ্টেশন ও কন্টেইনার ডিপো নির্মাণ করা হবে। রেলপথটি আপাতত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হলেও, পরিকল্পনা রয়েছে মিয়ানমার হয়ে চীন ও ভারতের কলকাতা পর্যন্ত প্রসারিত করার।

সম্প্রতি চীনের কুনমিং থেকে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ ও মিয়ানমার হয়ে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত বুলেট ট্রেন সেবা চালু করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীনও। এতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

রেলওয়ের মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়েকে লাভজনক করতে এ পথে পণ্য পরিবহন বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়। এজন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন চালুর প্রকল্প মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে হাইস্পিড ট্রেন চলবে ২০০ কিলোমিটার গতিতে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। এজন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে এলিভেটেড (উড়াল) রেলপথ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ হাজার ৯৫৫ কোটি সাত লাখ টাকার আপাতত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে চীন থেকে পাওয়া যাবে ২৪ হাজার ৭৬৪ কোটি ছয় লাখ টাকা। বাকি টাকা জিওবি (বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল) অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যাপারটি নিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবং রেলওয়েকে আধুনিক মানের করতে দ্রুতগতির (হাইস্পিড) ট্রেন চালুর প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে এ ট্রেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা-চট্টগ্রামে চলবে। পরবর্তীতে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।

0