সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের শোক দিবস পালনে বিভ‌ক্তি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় উপজেলা আওয়ামী লীগে ১৫ আগস্ট  জাতীয় শোক দিবস পালন নিয়ে  বিভক্তি দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার পক্ষের প্রকাশ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।


শোক দিবস পালনের জন্য ইতিমধ্যে দফায় দফায় দু’পক্ষ আলাদাভাবে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা। গত বছরের ১৫ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। মূলত এরপর থেকেই আহ্বায়ক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সারসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জি. মাসুদুর রহমান মাসুম ও সদস্য অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বিরু আহ্বায়ক কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শোক দিবসের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা ব্যাপক আয়োজনেরও পরিকল্পনা করেন।

সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সারের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন এবং মাহফুজুর রহমান কালামসহ তাদের সমর্থকরা গত ৮ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সোনারগাঁয়ে প্রস্তুতি সভা করেন। উভয় পক্ষের আলাদা কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন আবারও উত্তপ্ত।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, আমরা সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে যে ঐক্য গড়ে তুলেছি, সেই ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আমরা সকলে মিলে সোনারগাঁয়ের প্রতিটা ইউনিয়নের সবকটি স্পটেই আয়োজন করা শোক সভা ও গণভোজে উপস্থিত থাকব।

সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার জানান, ‘আহ্বায়ক কমিটি কী কর্মসূচি পালন করবে তা আমরা জানি না। তারা আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইউনিয়ন ভিত্তিক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সোনারগাঁয়ের একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নের সব কর্মসূচিতেই উপস্থিত থাকব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম জানান, আগামীকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার প্রায় ১৫/২০ স্পটে আলাদাভাবে শোক সভা পালন করা হবে । সেখানে গণভোজে আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইঞ্জি. মাসুদুর রহমান মাসুম জানান, ‘আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মেঘনা শিল্পাঞ্চল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কোরআনখানী, দোয়া ও গণভোজের আয়োজন করা হবে। সেখানে কয়েক হাজার লোকের গণভোজের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। পিরোজপুর ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দসহ আওয়ামীলীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

0