সোনারগাঁয়ে ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, ইউপি সদস্যসহ ৩ জন আহত

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বারদী ইউপির চেয়ারম্যান জহিরুল হক সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক ইউপি সদস্যসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন। এদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সোনারগাঁ উপজেলার শান্তিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে শান্তিরবাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাতে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় বারদী ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সমর্থিত ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু ও চেঙ্গাকান্দি গ্রামের সোহেলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৩ জন আহত হয়।

হাবিবুর রহমান হাবুর পক্ষের আনিছুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু পরিষদ থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে একটি বিচার সালিশে যাচ্ছিলেন।

এ সময় চেঙ্গাকান্দি গ্রামের সোহেল ফোন করে তাকে শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যান। এসময় সোহেলের নেতৃত্বে জুয়েলসহ ৫/৬ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে।

অপরদিকে চেঙ্গাকান্দি গ্রামের সোহেল বলেন, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবু একজন ডাকাত দলের সর্দার। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও গরু চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।

শান্তির বাজারের ব্যবসায়ীরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। শান্তির বাজারের নজরুলের দোকানে দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে হাবু ভাংচুর চালায়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি কয়েকজন ব্যবসায়ী ও আমাকে মারধরের চোষ্টাকালে এলাকাবাসী তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

এই ঘটনার পর হাবুর লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে শান্তিরবাজারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা এ সময় একটি দোকান ভাংচুর করে ও বাবু নামের এক নিরীহ লোকসহ ২ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাবিবুর রহমান হাবু ওই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে আতঙ্কে রেখেছেন। পুলিশ তাকে ডাকাতি ও গরু চুরির মামলায় গ্রেফতার করে একাধিকবার কারাগারে প্রেরণ করে।

তাছাড়া গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালান।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এলএন/ওও/জিআর/০৫২৯-১

0