স্ত্রী’র গহনা বিক্রি করে গার্মেন্টস শ্র‌মি‌কের বেতন দিতে হয়: অনন্ত জলিল

0

শামীমা আক্তার, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একটি ফ্যাক্টরি তৈরি করা থেকে শুরু করা পর্যন্ত পরিচালনা করা গার্মেন্টসে, কি পরিমান শ্রম দিতে হয় আর কি পরিমাণ এর নিজেদের স্থাবর সম্পত্তি মর্গেস রাখতে হয় ও অর্থ ব্যাংকে রাখতে হয় তা একজন মালিক জানে। একজন মালিক যখন প্রথম বিজনেস শুরু করে তখন ৬০ কেজি ওজনের দুটি লাগেস, স্যাম্পল নিয়ে বায়ারদের দরজায় দরজায় গিয়ে একটা বায়ারকে ইমপ্রেস করতে হয়। দেশ ও স্যাম্পল সম্পর্কে ইমপ্রেস করতে হয়। ফ্যাক্টরি ও পোটার সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলতে হয়।

এরকমই আবেগঘন এক বার্তা নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, দেশের তৈরি পোশাকখাতের অন্যতম ব্যবসায়ী ও বাংলা সিনেমার নায়ক অনন্ত জলিল।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ভিডিও বার্তায় অনন্ত জলিল বলেন, মিনিমাম এক বছর সময় লাগে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠিত করতে। আর এই একটা বছর নিজেদের জমানো টাকা এবং কি বউয়ের গহনা পর্যন্ত বিক্রি করে একজন মালিক কে তার কর্মচারীর বেতন দিতে হয়।

গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির দুর্দিন রানা প্লাজার এর দর্শনের পর থেকে শুরু হয়। রানাপ্লাজার মূলত একটি শপিং সেন্টার যার কয়েকটি তলায় কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ছিল। এটা দর্শনের পর মূলত কিছু শ্রমিকের ক্ষতি হয়েছিল যার দরুন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পরে। এবং চরম ইমেজ সংকটে ভোগে বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে দেশে আমেরিকা এবং ইউরোপের বায়ারদের আবির্ভাব ঘটে একক এবং অ্যালায়েন্স বিলিংসের। একক এবং অ্যালায়েন্স একটি এমন বিল্ডিং যা ফায়ার সেফটি ও বিভিন্ন সেফটি মূলক বিল্ডিং।

ব্যাপক সংস্কারের কাজ হাতে দেয় হয়। এইসকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গিয়ে মালিকদের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। যার ফলে কারণে অনেক মালিক আজ সর্বস্বান্ত । আজ তারা জীবিকানির্বাহের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে।

আমার নিজের প্রতিষ্ঠান কিছু ব্যাখ্যা তুলে ধরি। আমার একটি পাঁচতলা বিল্ডিং সম্পূর্ণভাবে ফেলি। এমনকি একটি দোতলা বিল্ডিং এর ফ্লোর ভেঙে ফেলি। ৮ তলা বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলি। সব মিলিয়ে হাজার বর্গফুট প্রত্যেকটা বিল্ডিংয়ের রিট করা হয়। একতলা বিল্ডিং বাদ যায়নি সব মিলিয়ে ১৮ কোটি টাকার ব্যয় হয়।

সে সময় মনে হয়েছিল সমস্ত গার্মেন্টস বন্ধ করে নিয়মিত কমার্শিয়াল সিনেমা করি। কারণ তখনকার এই দেড় বছর সময় প্রতিটা মিনিট কিভাবে কেটেছে তা সহ্য করার ক্ষমতা ছিলনা। আর সেই মুহূর্তগুলো এখন আপনাদেরকে বলে বোঝানো সম্ভব না।

এছাড়াও বাতিল করা একটা গ্রার্মেন্টেস পুনরায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

এরকম গ্রার্মেন্টেস প্রতিষ্ঠা করতে অনেক বড় বড় মালিকের অনেক বড় বড় সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়েছে। এভাবেই স্ট্রাগল করতে করতে গার্মেন্টস মালিকরা আজ অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

তারপরও আমরা গার্মেন্টস মালিকরা অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছি এ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরতে চাই ২০১৯ সালে একবারে সার্বিকভাবে শ্রমিকদের বেতনের বৃদ্ধি পায়।

২০১৮ সালেও শ্রমিকদের একবারে বেতন বৃদ্ধি পায় ৫০%। এর উপরে বছর পূর্ণ হলে 5 পার্সেন্ট বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া প্রতি বছর অডিটর গ্রার্মেন্টেস পরিচালনা করে। যে যথাসময় শ্রমিক বেতন পাচ্ছে কিনা, বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা, দিছে কিনা। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তা যাচাই-বাছাই করে।

কিন্তু দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে, আমাদের রপ্তানিকৃত গার্মেন্টস এর মূল্য বৃদ্ধি পায় নি উল্টো কমেছে। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি ২০১৩ সালে থেকে ২০২০ সালে পর্যন্ত গ্রার্মেন্টেসের মূল্য ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে।

সকল কমিটি এসে চেক করেন। এই যে ২০১৩ সালে গার্মেন্টস প্রাইস কত ছিল এবং বর্তমানে কত একবারও কি তাদের মনে প্রশ্ন জাগে নাই। মালিকরা এ টাকা কোথায় পায়। মালিকরা কি চুরি করে টাকা আনবে। নাকি ব্যাংক ডাকাতি করে। এ টাকা আনবে আমার এই প্রশ্ন বায়ারসমূহ আপনাদের সকলের কাছে।

এখন সময় এসেছে প্রতিটি পণ্য ক্রয় অনুযায়ী সর্বনিম্ন নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা তৈরি করুন। প্রতিটি গার্মেন্টস কে প্রতিটি পণ্যকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এর মূল্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন বেসিক, ফিলিংস, ফ্যাশন ও হাই-ফ্যাশন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিএকেএম ও জিকেএমকে এর মাধ্যমে এ নতুন নিয়ম বা নীতিমালা তৈরি করতে পারেন। পরবর্তীতে এর মাধ্যমে পূর্ণ ক্রয় বিক্রয় করা যেতে পারে। পরবর্তীতে এই নীতিমালার বাইরে কেউ পণ্য অর্ডার করতে বা নিতে পারবে না।

বিদেশে নির্ধারিত মূল্যে ব্যতীত যদি বিদেশে পূর্ণ রপ্তানি করে। তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গুলোতে তাদের দেশগুলোতে গার্মেন্টসের প্রাইসবেশি।

যার ফলে আমাদের দেশগুলোর গার্মেন্টসের মূল্য কম। আমাদের দেশে এর ফলে গার্মেন্টসের মালিক গুলো ক্ষতি হচ্ছে। আবার ব্যাংকের রেমিডেন্সের মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । এভাবে গার্মেন্টসগুলো টিকিয়ে রাখা খুবই মুশকিল হয়েছে।

আমি যখন ঘুমানোর জন্য চোখ বন্ধ করি। সকল সমস্যাগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা। আমার মত অন্য সকল মালিকদের ক্ষেত্রেও এমনটা প্রযোজ্য।

আমি আমার কোম্পানীর একটি উদাহরণ দেই ২০১৮ সালে আমার কোম্পানির লোক ব্যয় ছিল ১৪ কোটি টাকা। এখন ১০০ কোটি টাকা।

অনেকে বলেন গার্মেন্টস মালিকরা দেশের টাকা পাচার করে। আমার মত সৎ মালিকদের জন্য যারা দেশকে ভালোবাসে তাদের জন্য তা কখনোই প্রযোজ্য। আমার অন্য দেশে কোন বাড়িও নেই যা করেছি দেশেই করেছি। দেশের মানুষের জন্য করেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মানুষের অবদান কতটুকু সে সম্পর্কে আপনাদের একটু ধারনা দিতে চাই কারণ ভবিষ্যতে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে অবশ্যই যেন মনে পড়ে।

২০১৬-১৭ বছরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে আয় হয় 28 হাজার 184 মিলিয়ন ডলার চারপাশে 981 পার্সেন্ট 23% আদার্স যে প্রোডাক্ট আছে বাংলাদেশে তা সব মিলিয়ে ৬৬০০..

এখানে আরেকটি খাদ আছে যারা প্রবাসী ভাই ও বোনেদের বিদেশ থেকে বাংলাদেশি অর্থপ্রদান এর মাধ্যমে হয়। যা আমি বলতে পারছি না। তার জন্য আমি দুঃখিত আপনাদের অনেক অবদান আছে।

দেশে করোনা ভাইরাসের কারনে কোন আয় না থাকা আমাদের মাননীয় সরকার প্রচুর ত্রাণ বিতরণ করেন। এই ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অনিয়ম পাওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোঠর নিয়ম করেছে। যার কারণে আজ সেনা বাহিনীর মাধ্যমে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী পুলিশ এবং একযোগে ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি রইলো আমার কৃতজ্ঞতা।

এ পরিস্থিতির শ্রমিকদের বেতন প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ঘোষণা করেছেন।

এজন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে। এই দুঃসময়ে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকব তার এই সিদ্ধান্তের কারণে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন প্রদান নিশ্চিত হবে মন্ত্রী সম্বন্ধে উপযোগী দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে এইটাই প্রমাণিত হয় যে আমরা একটা যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটা আবেদনকৃত বাংলাদেশের সম্পূর্ণভাবে এপ্রিল মাসে বন্ধ ছিল তাই পরিশোধের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি
আকর্ষণ করছি আপনি একটু ভেবে দেখবেন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো কিছু কিছু কথা কিটক সমালোচনা

ছোটবেলায় শুনেছি আমাদের দেশে কিছু না বে না জেনে কথা বলতে গেলে আদার বেপারি জাহাজের খবর নিতে আসে আমার মনে হয় এ কথাটি তাদের জন্য প্রযোজ্য আধুনিক যুগে এসেও অর্থনীতিতে কোন অবদান নাই তাদের মুখে আজ সমালোচনার দুটি ঘরে বসে ভিডিও করে হিরো হতে চাচ্ছেন অর্থনীতিতে আপনার কোন অবদান নেই সেখানে সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ধরনের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন শান্তিতে দেশের জন্য কিছু একটা করে রোল মডেল হয়ে যান যাতে মানুষ আপনাকে অনুসরন করতে পারে দয়া করে কোন ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে গার্মেন্ট মালিকদের নির্দেশ করে ক্ষতি করবেন না যে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে কোটি কোটি মানুষের উপকার করছে দেশের অর্থনীতিতে অবদান কাজ করা আরও চার হাজার লোক কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করি ইনশাআল্লাহ মিনিমাম 15 হাজার লোকের কর্মসংস্থানের আমার মাথার ওপর রয়েছে তাদের মাথা আরো অনেক বড় বড় দায়িত্ব চিন্তাও রয়েছে সুতরাং তাদের আপনাদের কারণে তাদের গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয় তাহলে কি আপনাদের পক্ষে সম্ভব দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দাও আর যেহেতু আপনার দ্বারা সম্ভব না সেহেতু অযথা কাল গল্প করবেন না কথায় যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন ক্ষমা ও শুভ দৃষ্টি তে দেখবেন বলে আশা রাখি।

0