স্বামী বোবা হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে নাজমা: জয়নাল আবেদীন

0

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ভূমি দখলের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করা নাজমা বেগমকে ‘দূধর্ষ, ছলনাময়ী ও লোভী’ আখ্যা দিয়েছেন জয়নাল আবেদীন। তার দাবী, ‘বোবা স্বামী এবং নিজে মহিলা হওয়ার সুযোগ নিয়ে উল্টো তারাই প্রায় ৩.৫০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত।’

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে প্রেরত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন।

আল-জয়নাল প্লাজার মালিক ৫৬ নং এস,এম মালেহ রোডের মরহুম আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারকে বাৎসরিক ৩০-৩৫ লাখ টাকা আয়কর প্রদান করি। খানপুর ‘ম’ খন্ড মৌজার আর,এস ৮১৭ নং দাগের ৩০.১৬ শতাংশ, আর,এস ৮১৬ নং দাগের ৯.২৫ শতাংশ এবং আর,এস ৮১৯ নং দাগের ১০.৫০ শতাংশ সম্পত্তি একুনে মোট প্রায় ৫০.০০ শতাংশ সম্পত্তিতে ভবন নির্মানের জন্য কনসট্রাকশনের কাজ করছি। এমতাবস্থায় আর্থিক লাভের আশায় ছলে বলে কৌশলে আত্মস্বাতকারী ব্যক্তি আমার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি আত্মস্বাত করতে চাইছে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমা বেগম ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর জয়নাল আবেদীনের নামে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবজির মামলা দায়ের করেন। এরপর ৪ জানুয়ারি একই বর্ণনা দিয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ১৬ নভেম্বর পুলিশ সুপার বরাবর নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে এক আবেদন করেন। যাহার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার এএসপি (এ সার্কেল)কে বিষয়টি দেখার নির্দেশদেন। তিনি গুরুত্ব সহকারে ঐদিনই উভয় পক্ষের বরাবরে ৫০০০ নং স্মারকে এক নোটিশ প্রেরণ করেন। যেখানে ১৯ নভেম্বর দুপুরে দপ্তরের উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করেন। আমি যথা সময়ে উপস্থিত হলেও নাজমা বেগম উপস্থিত হয় নাই। পরবর্তী আবারও তারিখ দেওয়া হয়, সেখানে আমি আমার প্রতিনিধি আইনজীবী সহ উপস্থিত হলেও নাজমা বেগম উপস্থিত না হওয়ায় আবারও তারিখ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী তারিখেও নাজমা বেগম উপস্থিত না হওয়ায় আবারও বিগত ১২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেদেন। আমি আমার আইনজীবীসহ উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষার পরও নাজমা বেগম উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী তারিখ পরে জানাবেন বলে আমাকে বলাদেন।

এ অবস্থায় ১৩ জানুয়ারি দূর্ধর্ষ নাজমা বেগম তাহার বোবা স্বামীসহ কিছু প্রতিবন্ধিদেরকে ভুল বুঝিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মিথ্যা সাজানো বক্তব্য দিয়েছেন। সে নারী ও স্বামী বোবা হওয়ার সুযোগ নিয়া সকলের সহানুভূতিতে আবেগ পূর্ন অনুভূতিতে আঘাত করে আমার বিরুদ্ধে পুলিশকে ভূল বুঝিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলে অন্যায় ফয়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ঘটনার অভিযোগকারী আমার মালিকানাধীন সম্পত্তি জোর পূর্বক আনুমানিক প্রায় ৩.৫০ শতাংশ জমি বেদখল করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই সম্পত্তি আর,এস রেকর্ডিয় মালিক নাজমা বেগমের শ্বশুর সামসুজ্জোহা খান, চাচা শ্বশুর সেলিম খান, অপর চাচা শ্বশুর অলিউল্লাহ খান, তাহার ফুফু শ্বাশুরী মনোয়ারা বেগম, শান্তি বেগম, হোসনেয়ারা বেগম ও শাহিদা বেগম। আমি নাজমা বেগমের শ্বশুরের প্রাপ্ত আর.এস ৮১৬ নং দাগের বাড়ী ভুমি ২.৬৪ শতাংশ সম্পত্তি বাদে অন্য সকল আর.এস মালিকগনের থেকে ও আর.এস ৮১৯ নং দাগের ডোবা ভূমি খরিদ করে ভোগ দখল করছি এবং বহু অর্থ ব্যয় করে প্রায় ৫০-৬০ ফুট গভীর ডোবা বালুদ্বারা ভরাট করিয়া তথায় নির্মান কাজ করছি। বর্তমানে উক্ত ডোবা ভূমি আমি ভরাট করায় ঈর্ষান্বিত ও লোভের বশবর্তী হইয়া কুট কৌশলে আমার সম্পত্তি আত্মস্বাতের ও অন্যায় ভাবে আমার নিকট হইতে টাকা আদায় করার জন্য কিছু হলুদ সাংবাদিকের সহায়তায় আমাকে মিথ্যা মামলা মোকদ্দমায় ফাঁসাইয়া ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রহিয়াছে। উক্ত নাজমা বেগম তার স্বামী ওমর ফারুক নোবেল বোবা তাহার পিতার ওয়ারিশ হিসাবে ২.৬৪ শতাংশ সম্পত্তিতে মালিক হয়ে ভোগ দখলে আছে। আমি বোবার কোন সম্পত্তি দখল করি নাই কিংবা আদৌ কোনরূপ ভাংচুর বা মারধর করি নাই।

সম্পত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ৪র্থ আদালতে দেওয়ানী ৫০/১৮ এবং দেঃ ১৫/১৬ নং মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় নাজমা বেগম ফৌজদারী মামলা দায়ের করিয়া আমাকে পুলিশী হয়রানী করছে এবং আমার ৫০ শতাংশ জমির উপর আমার নির্মান কাজ বাধা গ্রস্থ হয়ে আমার আর্থিক ক্ষতি সাধন করিতেছে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত দেওয়ানী মামলায় কোন রূপ নিষেধাজ্ঞার আদেশ না থাকা স্বত্বেও শুধু মাত্র আমাকে হয়রানী করার অসৎ উদ্দেশ্যে নাজমা বেগম বিভিন্ন সময়ে আমিসহ আমার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারী মোকদ্দমা দায়ের করিয়া আমার বহু আর্থিক ক্ষতি করছে।

0