স্বাস্থ্য সচিবের প্রশ্ন ‘সাজেদায় বেশি, খানপুরে রোগী কম কেন’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে(খানপুরে) করোনা রোগী রয়েছে ১৭ জন, অন্যদিকে সাজেদা হাসপাতালে করোনা রোগী রয়েছে ৪২ জন। খানপুর হাসপাতালে এ কমসংখ্যক রোগী কেন? একইসাথে ৮০ জন চিকিৎসক কেন নিয়মিত কাজ করছেন না? এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে(ভিক্টোরিয়া) জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন আব্দুল মান্নান।

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, খানপুরে না এসে সাজেদায় রোগী বেশি এর মানে সেখানে তারা আরও ভালো সেবা পাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা না পেয়েই কি ঢাকায় ভিড় জমাচ্ছেন করোনা রোগীরা! সরকার ডাক্তারদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। ঢাকার পাশেই আপনাদের চাকরির ব্যবস্থা করেছে। আপনাদের উপর অনেক দায়িত্ব এখান থেকে সেবা না পেয়ে অন্যত্র চলে যাবে তা হতে পারে না।

খানপুর হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সর্তক করে সচিব বলেন, কোন রোগী যদি অভিযোগ করেন খানপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত গিয়েছেন। তাক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি প্রথম যখন চাকরি করি ইউএনও হিসেবে যুক্ত হয়েছিলাম। ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আমি আমার স্ত্রী’র সাথে কথা বলে আসতাম। চাকরিতে এত টুকুই গাফলতি করি নি। আপনাদের এখন ডিজিটাল যুগ, চাইলেই ভিডিও কলে কথা বলতে পারেন। তবে, কেন এরকম গাফলতি? সরকার আপনাদের যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে তা হালার করুন।

খানপুর নিয়ে সচিবের এরকম উদ্বেগ প্রকাশ করার, উত্তর দেন হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক ডা.সামসুজ্জোহা চৌধুরী সঞ্চয়।

ডা.সামসুজ্জোহা চৌধুরী সঞ্চয় বলেন, সাজেদার সাথে খানপুরকে তুলনা করা পুরোপুরি ঠিক হবে না । কেননা, সাজেদা হাসপাতালে কোন রোগী প্রবেশ করলেই তার জন্য দু’জন ওয়ার্ড বয় নিয়োজিত হয়ে যান। অন্যদিকে, খানপুরে ওয়ার্ড বয় মাত্র একজন। খানপুর হাসপাতালে আইসিইউ সেবা শুরু হয়েছে মাত্র ১১ দিন যাবত। ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকেও অনেকে আইসিইউ সেবা না পেয়ে খানপুরে এসে সেবা নিয়েছেন। এছাড়াও, খানপুর হাসপাতাল ৩০০ শয্যা বলতে ৩০০ শয্যা নেই। ৫০০ শয্যার প্রস্তাবিত হওয়ার পর, উন্নয়নের জন্য একটি অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। বর্তমানে ১০০ শয্যার আইসোলেশন এবং ১০ শয্যার আইসিইউ নিয়ে মোট ১১০ শয্যায় রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। খানপুর হাসপাতালে ৮০ জন চিকিৎসকদের মধ্যে সকলে নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। ৫ জনের মতো কনসালটেন্ট বাড়িতে বসে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন, ৬ জন পিসিআর ল্যাবে নিয়মিত কাজ করছেন। এনিয়ে ডাক্তার সংখ্যা ৬০ জনে এসে দাঁড়ায়। আবার অনেকে ছুটি রয়েছেন। আমি সপ্তাহে মাত্র একদিন ছুটি পাই, অন্যরা ১০ দিন ডিউটি ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন এবং ৬ দিন পরিবারের সাথে এভাবে কাজ করছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়, সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

0