হকাররা আমাদের ভাই, চাই তারাও বসুক: এসপি হারুন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘হকাররা আমাদের মতই মানুষ, আমাদেরই ভাই। তারা আমাদের সমাজেরই মানুষ। সে কারণে আমরা চাই, সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থান হোক। আমরা চাই হকাররা যেন বসতে পারে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) হকার সমস্যার সমাধানে নগরীর চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের সামনে এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। বিফ্রিং এ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া হয়ে বঙ্গবন্ধ সড়ক, ২নং রেল গেট, ১নং রেলগেট এবং সিটি করপোরেশন; এই জায়াগায় প্রতিদিন লাখ-লাখ মানুষ চলাচল করে থাকে। এই জায়গার সড়কগুলোয় যদি যানজট বাধে, অবৈধ পার্কিং করা হয়, রাস্তায় হকাররা তাদের মাল নিয়ে বসে থাকে তাহলে মানুষের চলাচল কষ্টদায়ক হয়। পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার করতে লাগে আধা-ঘন্টা। আমাকে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, যানজটের কারণে এই জায়গায় দিয়ে চলাচলে প্রচুর সময় লাগে। তাই এ জায়গার সড়কগুলো ঝামেলামুক্ত রাখার জন্যে কাজ করছি। এ জন্যে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাননীয় মেয়র আইভী ও সাংসদ সেলিম ওসমান।

হকার ইস্যুর ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, হকার্স মার্কেট এ ৬৫০ টির মতো দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন মাননীয় মেয়র। আজ লক্ষ্য করেছি, হকার্স মার্কেটে বসে নাই কোন হকার। তারা প্রত্যেকে দোকান বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র বসছেন। ব্যাপারটি দু:খজনক যে- এই দোকানগুলোর বেশিরভাগেই হকার নেই। অনেকে দোকান ভাড়া অথবা বিক্রি করে দিয়েছেন আর রাস্তায় বসছেন। এই ৬৫০ দোকান যদি খোলা থাকত, মালিকরা যদি দোকানে বসত তাহলে রাস্তা থেকে ৬৫০ হকার কমত। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাই এ দোকান বিক্রি করা যাবে না।

মেয়রের প্রতি অনুরোধ করে পুলিশ সুপার বলেন, আমি অনুরোধ করছি প্রকৃত হকারদের যেন এ মার্কেটে আনা হয়। এর পাশাপাশি বাকি হকারদেরও এখানে আনা হোক। প্রয়োজনে এখানে বহুতল ভবন করা হোক।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, আমি আশা করছি আপনারাও বিভিন্ন জায়গায় আওয়াজ পৌছাবেন, যাতে করে হকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

‘ছেলেধরা’ গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় ও ওয়ার্ডে ছেলেধরা গুজবের ব্যাপারে মাইকিং করেছি। এতে জনগণ অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে সবাই সতর্ক হচ্ছেন। আমি আবারও বলতে চাই- যদি কেউ ছেলেধরা গুজব রটায়, তাতে কেউ কান দিবেন না। আর কেউ আইন নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কোন ঘটনা ঘটলে আমাদের জানাবেন। আমাদের ইমার্জেন্সী টিম তৈরী আছে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।

তিনি বলেন, নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে হত্যা করা এক জঘন্য অপরাধ। হত্যা করার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মামলা রজু হয়েছে। অনেকেই মামলার আসামি হয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি। এতে যারা দোষী সাবস্ত হবেন তাদের প্রতি আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচন প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, এক দিন পরই নির্বাচন হবে। আমরা এ ব্যাপারে সেখানে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।

0