হতদরিদ্রের টাকাও আত্মসাৎ এর অভিযোগ এহসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: যার মাসিক আয় ৪ হাজার টাকার কম, ভুমিহীন কিংবা কোন কাজ পায় না; এমন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মহীন মৌসুমে স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। অথচ, এ মানুষ গুলোরই স্বাক্ষর নকল করে মজুরীর লাখ লাখ টাকা ন্যাক্কারজনক ভাবে আত্মসাৎ করতেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন।

গত ২০১৮ সালের ২০ মে এমনই অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই ইউনিয়নটিরই সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। যদিও তিনি নিজেও এখন দূনীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। একই অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিনকেও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মূলত এলাকার অতিদরিদ্র এবং মৌসুমী বেকার শ্রমিক পরিবারের জন্য বছরে ২ বার ৪০ দিন করে ইজিপিপি প্রকল্পটি গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুর, খাল খনন বা পুনঃখনন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকর্তৃক সুপারিশকৃত বাঁধ নির্মাণ, রাস্তা পুন:নির্মাণ, গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ কাজের জন্য ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল, নালা পুন: খনন করা হয়। এতে একদিকে যেমন কর্মহীন মৌসুমে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাজের চাহিদা পূরণ হয়, অন্যদিকে উন্নয়ন হয় গ্রামীন অবকাঠামোর।

সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিনকে বিবাদী করে অভিযোগটিতে উল্লেখ করেছিলেন, ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এর সভাপতি, সেক্রেটারী ও ইজিপিপি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও নবীগঞ্জ শাখার সোনালী ব্যাংক লি. ম্যানেজারের যৌথ প্রচেষ্টায় কর্মসূচীতে নিয়োজিত উপকার ভোগী শ্রমিকদের সই নকল করে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে হতদরিদ্র শ্রমিকগনের মজুরী আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।’

যদিও বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ সব সময়ই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন। বিভিন্ন সময় দোষ চাপিয়েছেন সচিবসহ অন্যান্যদের উপর। তবে, শেষ রক্ষা পায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চূড়ান্তভাবে কেন বরখাস্ত করা হবে না? সে বিষয়ে জানতে চেয়ে সময় বেধেঁ চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

0