‘হাজী সাহেব বলছি, ৬৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েন’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘চাচা আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি হাজী আজমেরী ওসমান বলছি। আমার একটা লোক আপনার কাছে যাবে, তাকে ৫৬ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে দিয়েন এবং আদর্শ মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে মিষ্টি খাওয়াইয়া তার হাতে ৫‘শ টাকা দিয়েন।’

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে আমলাপাড়া এলাকার বাচ্চু মিয়াকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে কথা গুলো বলেছিলেন অজ্ঞাতরা। পরবর্তিতে বাচ্চু মিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহির করে দেওয়ার ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে ওই দিনই মধ্যরাতে কলেজ রোড এলাকার দেওয়ান মঞ্জিলে অবস্থিত আজমেরী ওসমানের অফিস ও ফ্ল্যাটে যৌথ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, অভিযান থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।

লিখিত ওই প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “চাঁদা চাওয়ার কিছুক্ষন পরই মোকলেছ নামের এক লোক বাচ্চু মিয়ার সাথে কালির মন্দিরের সামনে দেখা করে। বাচ্চু মিয়াও মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য কালির মন্দিরের পাশের আদর্শ মিষ্টির দোকানে নিয়ে গেলে মিষ্টি খাবে না বলে জানান। পরবর্তীতে গ্রামীন হোটেলে নিয়া হালিম খেতে বললেও খাবে না বলে দোকান থেকে বাহির হয়ে যায়। বাচ্চু মিয়া দোকান থেকে বাহির হলে মোকলেছুর রহমান তাকে বলে ‘আপনাকে হাজী সাহেব ডাকছে’। এই কথা বলার সাথে সাথেই মোখলেছ, শাহাদাৎ হোসেন রুপুসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন বাচ্চু মিয়ার পড়া পেন্টের বেল ধরে টেনে হেচরে কালির বাজারের মাংসপট্টির আফসু মহাজনের দোকানের সামনে নিয়ে এলাপাথাড়ী মারধর শুরু করে। পরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে আসামী মোখলেছুর রহমানের হুকুমে সকল আসামীরা বাদিকে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করিতে দিবে না বলে ভয়ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি দেন।”

বর্তমানে যে অবস্থায় আছে মামলাটি:

অজ্ঞাত আসামীদের নাম ঠিকানা, মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত থাকা এজাহার নামীয় পলাতক আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করার লক্ষে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সদর থানা পুলিশের কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন। এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামান এর আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড প্রাপ্তরা হলেন- জেলা ছাত্রসমাজের আহবায়ক ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন রুপু (৩২) ও শহরের গলাচিপা ডি.এন রোড এলাকার বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান (৩৫)।

রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রোমন।

ঘটনা সম্পর্কে যা ফেসবুকে আজমেরী ওসমানের স্ট্যাটাস:

৫ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর আজমেরী ওসমান নামের একটি ফেসবুক পেজে লেখা হয়, “নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আস‌নে চারবা‌র নির্বা‌চিত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত বীরমু‌ক্তি‌যোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম না‌সিম ওসমান ছিলেন গণমানু‌ষের নেতা। গরীব, দু:‌খি ও মেহন‌তি মানু‌ষের প্রাণ। এরই ধারাবা‌হিকতায় পিতার আদর্শ‌কে ধারণ ক‌রে দু:স্থ, অসহায় সর্ব সাধার‌ণের পা‌শে থে‌কে কাজ ক‌রে‌ যা‌চ্ছে তারই একমাত্র পুত্র আজ‌মেরী ওসমান। সেই সুবা‌ধে সরাস‌রি কোন রাজনী‌তির সা‌থে সম্পৃক্ত না হ‌লেও সমা‌জ সেবামূলক বি‌ভিন্ন কা‌জে আপমর জনতার ভালবাসায় সুনাম ও জন‌প্রিয়তা অর্জন ক‌রে‌ছে। সম্প্র‌তি এক‌টি মহল এ সুনাম ক্ষুন্ন করার ল‌ক্ষে অপপ্রচার চালা‌চ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভি‌ত্তিহীণ। ”

সক‌লের অবগ‌তির জন্য জানা‌নো যা‌চ্ছে যে, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের ফ্ল্যাটে ব্লক রেইড চালিয়েছে পুলিশ। এসময় আজমেরী ওসমানের দুই সহযোগিকে আটক করা হয়েছে । এমন ত‌থ্যে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বলা হ‌চ্ছে। আই‌নের প্র‌তি আমরা শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃতপ‌ক্ষে পু‌লিশ তা‌দের কা‌জের স্বা‌র্থে কাজ কর‌ছে। এ‌তে সাধুবাদ জানা‌নো আমা‌দের কর্তব্য। কিন্তু যতদূর জান‌া গিয়েছে যা‌দেরকে আজ‌মেরী ওসমা‌নের সহ‌যোগী বলা হচ্ছে তারা আস‌লে জাতীয় পা‌র্টির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমা‌জের জেলা নেতৃত্ব দেয়। তাদের যে বিষ‌য়ে অ‌ভিযুক্ত করা হ‌য়ে‌ছে, সে বিষ‌য়ে আজ‌মেরী ওসমান অবগত নয়। কারণ আজ‌মেরী ওসমান কখ‌নো কোন মাদক কারবা‌রি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী‌দের প্রশ্রয় দেয়না। যারাই এধর‌ণের কাজ ক‌রে‌ছেন তা‌দেরকে আইন শৃঙ্খলা বা‌হিনীর কাছে সোপর্দ করা হ‌য়ে‌ছে। অতি‌তে এগু‌লো সক‌লেই দে‌খে‌ছেন ও বি‌ভিন্ন গণমাধ্য‌মে সাংবা‌দিক ভাই‌য়েরা প্রকাশ ক‌রে‌ছেন। তাই এক‌টি কুচ‌ক্রিমহল যে অপপ্রচা‌র কর‌ছে এর তীব্র নিন্দা ও প্র‌তিবাদ জানাই। ভ‌বিষ্য‌তে এসব কর্মকা‌ন্ড কেউ কর‌লে আমরা ক‌ঠোর পদ‌ক্ষেপ নি‌তে বাধ্য হবো।’

0