হাট দখলকারী সেই কবিরের নিয়ন্ত্রণে সাইলো

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একে তো সরকারের নিয়ম নীতি না মেনেই হাট দখল করেছেন। তার উপর সাংবাদিকদের জোড় গলায় কবির হোসেন বলছেন, ‘কোন নিয়ম নীতি মানতে পারবে না, আপনারা লেখলে লেখেন, পারলে বন্ধ করে দেন’।

সংবাদ প্রকাশের পর কবির হোসেনের সেই বক্তব্য বেশ সমালোচিত হয়। তাই অনেকেই প্রশ্ন করেছেন কে এই কবির হোসেন? তাদের মতো প্রশ্নটি এসেছে এই প্রতিবেদকেরও। কিন্তু তাঁর বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমে বেশি কষ্ট করতে হয়নি।

কবির হোসেন নিজেকে বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়ন সাইলো শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। আবার কখনো কখনো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি বলেন নিজেকে।

এ দু’টি পরিচয়কে হাতিয়ার করে কবজা করে বসার অভিযোগ পাওয়া গেছে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত বিশ্ব খাদ্য গোডাউন (সাইলো) এর লোড-আনলোড কার্যক্রম। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একপ্রকার জিম্মি করে প্রতি গাড়ি থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে অবৈধভাবে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

একসময়ের কাচড়ার ব্যবসা করতেন কবির হোসেন, এখন সময়ের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। হঠাৎই তার চলার ধরন দেখে এলাকার সাধারণ মানুষও চমকে ওঠেন। কবির হোসেন কয়েক বছরের ব্যবধানে হয়েছেন পাঁচতলা বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক। সম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে গড়ে তুলেছেন বাহিনী।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এই বিষয় গুলো নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে জাতীয় একটি গণমাধ্যমে।

সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল, বিশ্ব খাদ্য গোডাউন (সাইলো) থেকে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ঢাকা ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকায় গম আনা-নেওয়া করা হয়। সেই সুবাদে সাইলোতে কবির হোসেন নিজের ছয় থেকে সাতটি ট্রাক এসব গম আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এ কাজে অন্যান্য মালিকদের ট্রাকের ভাড়া বাবদ প্রায় দেড় গুণ টাকা আদায় করে থাকেন তিনি। তার নির্দেশেই এসব পরিবহন লোড-আনলোড হয়। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনের ৬৭৬ জন ও ঢাকা বিভাগীয় সড়ক পরিবহনের ১১২ জন ঠিকাদার মালামাল আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু সকলেই কাজ করতে হলে অনুমতি প্রয়োজন হয় কবিরের থেকে। তার গাড়ি সবার আগে লোড হয়, তারপর অন্য গাড়ি। তার বেঁধে দেওয়া ভাড়ায় গাড়ি চলে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ওনার কথা না মানলে ওই গাড়ির ট্রিপ বাতিল হয়ে যায়। কেউ এই এলাকার বাইরের গাড়িতে মালামাল লোড দিতে চাইলে কবিরের পেটোয়াবাহিনীর কারণে তা পারে না।

স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ২০০৮ সালের আগে কবির হোসেনের নামও ছিল না এলাকায়। কিন্তু বর্তমানে সাইলোতে তার একক নিয়ন্ত্রণ, তিনি নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা দাবি করলেও শ্রমিক লীগ বা আওয়ামী লীগের কেউ তার কুকর্মের সাথে জড়িত নয়। কবির এই গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে নিজেস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তার হুকুম ছাড়া এই এলাকায় একটা গাড়িও চলে না। যদি চলতে হয়, তাকে মোটা টাকা দিতে হয়। কেউ মুখ খোলার সাহসটুকু পায় না। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়ন সাইলো শাখার সভাপতি কবির হোসেন নিজের ক্ষমতা সর্ম্পকে ধারণা দিয়ে বলেন, শ্রমিক নেতা পলাশ যেমন আন্তঃজেলা সভাপতি, আমিও তেমনই সভাপতি। সম্প্রতি সময় একটি পক্ষ এই অভিযোগ গুলো তুলে সাংবাদিকদের দিয়ে কিছু টাকার বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার করিয়েছিল। এই অভিযোগ গুলো মিথ্যা। এই অপপ্রচার করে আমার কি হয়েছে, উল্টো সেই সাংবাদিক সাইনবোর্ড গিয়ে শিক্ষা পেয়ে গেছে। আমি লোড-আনলোড করতে দিবো না কেন? এটা যদি গার্মেন্টম-কারখানা হতো, তাহলে একটা ব্যাপার ছিল। আমি দলীয় প্রভাব ক্ষাটিয়ে বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান, এখানে কারো বাপের ক্ষমতা হয়নি লোড-আনলোড বন্ধ করে দিবে। এমপি মহদয় বা মেয়রও যদি আসে, তাহলেও সাইলোর বিতরে অযৌক্তিক ভাবে কোন কিছু করতে পারবে না। কারণ সাইলোর বিতরে ট্রাক চালক-হেলপার ছাড়া একজন লোকও প্রবেশ করতে পারে না। আমি যদি মানুষ ও প্রশাসনকে জিম্মি করে টাকা পয়সা নিতাম, মানুষ আর প্রশাসন কি আমাকে ছেড়ে দিতো?

বাহিরের ট্রাক প্রবেশ করলে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বাহির থেকে যে গাড়িটা আসে, লোড-আনলোড করতে দেই না। আমার এখানে যদি ১০০ গাড়ি আসে, তাহলে আমি ৫০ টাকা করে পাই, সেই টাকা আমার কল্যাণের জন্য আমার সদস্যরা দেয়। এই টাকা মালিক বা কন্টেকটারদের কেউ দেয় না। এটা দিয়ে আমি সদস্যদের সহযোগীতা করি।

 

নিউজ পড়কে ক্লিক করুন

ইজারার আগেই নারায়ণগঞ্জের ৪ অস্থায়ী হাট প্রস্তুত
ওমরপুরের সেই হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সিটি করপোরেশন