হাসপাতালের বেডে চাষাঢ়ার এক দুরন্তপনা শিশু

0

সমাজের ভদ্রবশী হায়নাদের হাত থেকে মানুষিক প্রতিবন্ধী মেয়েটাও আজ নিরাপদ না। চাষাঢ়া ষ্টেশনে এক হত দরিদ্র দম্পতির মেয়ে মানুষিক প্রতিবন্ধী সোনিয়া। ঠিক কোন সময় কার পাষন্ড পিপাসার বলী হয়েছিল তা বলার ক্ষমতাও তার নেই। কিন্তু সেই নির্মমতার প্রমাণ ছোট্ট নিস্পাপ “ইয়াছিন”।

ইয়াছিন কে চাষাঢ়া ষ্টেশনে সবাই চেনে “টাইগার” নামে। শ্যাম বর্ণের ছোট্ট শিশু টাইগারের বয়স ৬ বছর। চাষাঢ়া ষ্টেশনে রোজ বেরে ওঠা এই বাচ্চাটিকে কম বেশি সবাই চেনে। তার নিষ্পাপ চেহারা আর ছোট্ট ভাঙা ভাঙা আদুরে কথা অবাধ্য পথচারীকেও তাকে একটু ছুঁয়ে দিতে বাধ্য করে। মা সোনিয়া মানষিক প্রতিবন্ধী হওয়াতে সে তার নানা-নানীর কাছে মানুষ। মায়ের আদর কি ঠিক করে বলতেও পারে না। তবু দারিদ্রতা-মায়ের মমতাহীন এই বাচ্চাটির মুখে সব সময় লেগে থাকে এক চিলতে হাসি।

এক কথায় বলা গেলে চাষাঢ়া ষ্টেশনের এক টুকরো ভালোবাসার নাম ইয়াছিন ওরফে টাইগার। কিন্তু আজ চার দিন সেই নিস্পাপ হাসি আর দুরন্তপনা শূন্য চাষাঢ়া ষ্টেশন। যে বাচ্চাটি সারাদিন ছোট দুটি পায়ে ষ্টেশনের এক মাথা থেকে অন্য মাথা ছুটে চলত বিরামহীন ভাবে, আজ সে শান্ত। অচেতন ভাবে পড়ে আছে ঢাকার মহাখালিতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ৫নং ওয়ার্ডের ১৫ নাম্বার বেডে। ছোট্ট কোমল হাতে পরানো হয়েছে ক্যানেলা। টাইগারের শরীরে একসাথে বাসা বেঁধেছে হাম, লাং ইনফেকশন, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ডেংগু জ্বর। নিস্পাপ মুখটিতে যেন রাজ্যের ক্লান্তি ভর করেছে।

কথায় আছে “দশের লাঠি, একের বোঝা” সবাই মিলে যদি একটু একটু করে সাহায্য করি তবে বাচ্চাটির চিকিৎসা তার নানা-নানির জন্য বোঝা হবে না। আমরা সবাই মিলে চাইলেই হয়তো পারি সেই নিস্পাপ মুখের অনাবিল হাসিটুকু আবার ফিরিয়ে আনতে। আমাদের সকলের চাওয়াতেই হয়তো মহান আল্লাহ পাক এই প্রানবন্ত হাসিটুকু বাঁচিয়ে রাখবেন।

আপনাদের সকলের কাছে একটাই আবেদন, বাচ্চাটাকে একবার নিজ চোখে দেখে আসবেন, তারপর না হয় সাহায্যের কথা ভাববেন। যোগাযোগ ও সাহায্যের জন্য- ইফতেকার আহমেদ (বিকাশ নাম্বার- ০১৯৩২৩৩৬৪৬৭)

0