হাসপাতালের হদিস নেই, কাগুজে চিকিৎসক বেতন নেন!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এখনও বন্দোবস্ত হয়নি জমির, নির্মাণ হয়নি হাসপাতালের স্থাপনা। অথচ, উপজেলার ২টি হাসপাতালে কর্মরত দেখিয়ে মাসে মাসে ২৪ জন চিকিৎসক তুলে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সদর উপজেলার স্বাস্থ্য খাতে দূর্নীতির অভিযোগ এনে জনগণের কাছে এমন তথ্যই তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

ওই বক্তব্যের পরে জনগণও প্রশ্ন তুলেন- যেখানে হাসপাতালই নির্মাণ হয়নি, সেখানে কিভাবে চিকিৎসকরা প্রতিমাসে বেতন তুলে নেন?

লাইভ নারায়ণগঞ্জের অনুসন্ধ্যান বলছে, সবশেষ জুলাই মাসে জেলা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভাতেও সিভিল সার্জেন কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২০ মে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি মৌজায় ও একই বছরের ২ অক্টোবর ফতুল্লার কাশিপুরে ২০ শয্যা করে ২টি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি বন্দোবস্ত করতে বলা হয় মন্ত্রনালয় থেকে। পরে জেলা প্রশাসনের কাছে জেলা সিভিল সার্জন ওই বছরই জুলাই মাসে হাসপাতাল দুটি নির্মানের জন্য জমি চায়। এরপর দুই দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল আর হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, এ হাসপাতাল দু’টি জমির অভাবে হচ্ছে না। ২টি হাসপাতালেই কিছু চিকিৎসক পোস্টিং রয়েছে। তবে, কত জন জানা নেই। তাদের বেতন প্রদান করেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকলপনা কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে আপনি তার সাথে কথা বলতে পারেন।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকলপনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ২৪টি পদ নয়, ২টি হাসপাতালে ৬টি করে ১২টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে ৮ টি চিকিৎসক, ৪ টিতে মেডিকেল অফিসার পদ। বর্তমানে ৮টি পদে চিকিৎসক রয়েছে। যারা বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত। আর বাকি ৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, সদর উপজেলায় যে দু’টি হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিলো, সেগুলো না হওয়ার কারণে মিনিস্ট্রিকে জানানো হয়। পরে মন্ত্রনালয়ের অনুমোতিতেই চিকিৎসক সংকট থাকায় কিছু লোক নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে, কিছু লোক আবার ঢাকার মুগদা হাসপতালে কর্মরত রয়েছে। এছাড়া বেশ ক’জন সদর উপজেলায় কিছু দায়িত্ব পালন করছে। এমপি মহদয় যেটা বলেছে, সেটা ঠিক আছে। তবে ওরা কেউ বসে বসে টাকা নিচ্ছে না।

0