১৩ দিন লড়াই করে হেরে গেল মাহিনুর

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন মাহিনুর (৩৮)। দুলাভাইয়ের ছোড়া এসিডে ঝলছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন ২২ মার্চ (রোববার) রাতে। ৩এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে জীবন যুদ্ধে হেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন মাহিনুর।

মাহিনুর বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের ইনচার্জ মোঃ সেকেন্দার জানান, নিহতের লাশ শুক্রবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি বরগুনায় নেয়া হয়েছে ।

অপর দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আসলাম হোসেনও মাহিনুরের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

২২ মার্চ (রোববার) রাত সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন আলী আহম্মদের বাড়ির গলিতে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শ্যালীকা মাহিনুরের গায়ে এসিড দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে দুলা ভাই নূর ইসলাম । এ ঘটনার পর থেকে নূর ইসলাম পলাতক।

নূর ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের ব্যাক্তিগত গাড়ীর চালক।

ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নূর ইসলামের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দগ্ধ মাহিনুর (৩৮) আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেয়ার পথে সকল ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন স্বজনদের কাছে। দগ্ধ মাহিনুর নিজেই এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়ার কথা বললেও পুলিশের দাবী প্রথমে জ্বালানি তেল গায়ে ঢেলে দেয়ার পর আগুন দেয় নূর ইসলাম ।

 

অন্যদিকে ঘটনার পর পর ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা তাারেক আজিজ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, নুর ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীর প্রাইভেটকার চালক । নুর ইসলাম তার দুর সম্পর্কের শ্যালীকা গার্মেন্টকর্মী মাহিনুরকে দীর্ঘদিন যাবত কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। মাহিনুর এ ঘটনা নূর ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগমকে জানায় । এরপর মাহিনুরকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেয় নূর ইসলাম। হুমকির বিষয়টি গার্মেন্টস কর্মী মাহিনুর তার পরিবারের লোকজনকে জানায় এবং থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন । থানায় অভিযোগ করবে এমনটা জানতে পেরে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় গার্মেন্ট থেকে বাসায় ফেরার পথে বাড়িওয়ালা আলী আহম্মদের দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার বাড়ির কাছে গলিতে মাহিনুরের পথরোধ করে নুর ইসলাম। এসময় তিনি অতর্কিতভাবে বোতল থেকে জ্বালানী তেল মাহিনুরের মাথায় ও শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে দগ্ধ মাহিনুরের ডাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে নুর ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাহিনুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মাহিনুর বেগম মারা যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি । এই মামলার মূল হোতা নূর ইসলামকে গ্রেফতার করতে জোড়ালো চেষ্টা চলছে ।

0