১৩ বছরে না.গঞ্জ থেকে প্রবাসে গেছে ৪৭ হাজার নারী

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৯ বছর বয়সী তরুণী শ্যামলী আক্তার (ছদ্মনাম)। সাত-আট বছর আগে তিন ভাইবোনকে রেখে তাঁর বাবা অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর মা পোশাক কারখানায় কাজ করে তাঁদের বড় করেন। মা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের হাল ধরতে হয় এ তরুণীকে। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ নেন। কিন্তু তা দিয়ে সংসার চলছিল না। তখন বস্তির এক তরুণীর মাধ্যমে দুবাই যান। নাচের কথা বলে নেওয়া হলেও একপর্যায়ে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয় তাকে।

উন্নত জীবনের আশায় এই বছরের মার্চে সৌদি আরবের আল কাসিম অঞ্চলে কাজে গিয়েছিলেন আড়াইহাজারের কুলসুম বেগমও। কিন্তু ছয় মাসের মাথায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। নির্যাতনের কারণে কাজ করতে চাননি বলে স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সিতে তাকে ফেরত দিয়ে যান সৌদি গৃহকর্তা। কাজ করতে চাননি বলে এজেন্সির লোকেরাও সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে।

কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমারে বুট জুতা দিয়ে ইচ্ছামতো মুড়াইছে। লাথি মারছে, গালের মধ্য চড়াইছে। আমি বুকের পাঁজরে আঘাত পাইছি। লাথিতে আমার কিডনিতে সমস্যা হইছে। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলছিলেন, তার ঘরে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছিলো তার চাকুরীদাতা। তাই গরমে ফ্যানও চালাতে পারেননি।’

আর শ্যামলী জানান, প্রথম আরব আমিরাতের ‘ড্যান্স ক্লাবে’ যান। নাচের কথা বলে নেওয়া হলেও একপর্যায়ে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়। তিন মাস থেকে ফিরে আসেন। এরপর এই বছরের মাঝামাঝিতে অভাবের কারণে আরেকবার গিয়েছিলেন।

শুধু শ্যামলী কিংবা কুলসুম বেগম নয়, গত ১৩ বছরে দেশের যে দশটি জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি নারী বিদেশে গেছেন। তার মধ্যে ৩য় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রবাসী নারী শ্রমিকরা। গত ২০০৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ৪৭ হাজার ৩৩০ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এদের বেশির ভাগই আসতে হয়েছে নির্যাতনের শিকার হয়ে। অনেকে হয়ে ফেরেছেন লাশ।

সম্প্রতি এ সব নারীদের নিয়ে প্রচার করা একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের অনুসন্ধ্যানে বেড়িয়ে এসেছে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ তরুণীকে পাচার করেছে এ চক্রটি।

র‌্যাবের অনুসন্ধান ও অভিযান পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্ব দেয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, মূলত এ পাচারকারী চক্রের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরত স্বল্প শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীসহ পারিবারিক ভাঙন ও বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার তরুণীরা। এ চক্রের সঙ্গে দেশের বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও পাসপোর্ট অফিসের লোকজনসহ দালাল চক্রের শতাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।

0