১৯৮৬ সাল: ১৪ অস্ত্রধারীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো না.গঞ্জের অপরাধ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশীদের ফ্রীডম পার্টির দুর্ধর্ষ ১৪ অস্ত্রধারীর নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ। ১৯৮৬ সাল থেকে পরবর্তী চার বছর পর্যন্ত জেলাটির বহু সহিংস ঘটনায় এরাই ছিল মূল নায়ক।

ছোট বড় অস্ত্র চালানো ও বোমা চার্জ করার বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই অস্ত্রবাজদের সঙ্গে নিয়েই চলাফেরা করতেন ফারুক, রশীদ আর বজলুল হুদা।

ফারুক রশীদ তাদের ফ্রীডম পার্টির কার্যক্রম শুরু করে শীর্ষ স্থানীয় সন্ত্রাসী আর সর্বহারাদের নিয়ে। দলে যোগ দিলেই নতুন অস্ত্র আর অর্থ-এমন কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয় তরুণ আর যুবকদের মাঝে। পাড়ায় মহল্লায় এমন তথ্য ছড়িয়ে দেয় নির্দিষ্ট কিছু বড় ভাইয়েরা। পাড়া মহল্লার বড় ভাইদের কাছে নিত্যনতুন অস্ত্র আর জিপ গাড়ি দেখে অনেকেই লোভে পড়ে যায়। দলে দলে যোগ দিতে থাকে শত শত তরুণ আর যুবক। এদের মধ্যেই ছিল পেশাদার অপরাধী আর টপটেরররা। এদের মধ্য থেকে আবার বেশ কয়েক জনকে আলাদা করে পাঠানো হয় লিবিয়ায়।

এসব যুবককে লিবিয়ায় গাদ্দাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ত্রিপলিতে ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফারুক আর রশীদ নিজেই তাদের প্রশিক্ষণ দিতেন। আর অস্ত্র অর্থ সরবরাহ করতেন লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফি।

বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত যুবক তরুণকে নারায়ণগঞ্জে ফেরত এনে ঢাকার রাজনৈতিক সহিংসতার জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়।

নারায়ণগঞ্জে কো-অর্ডিনেটর ছিলো কামাল আহমেদ, মোহাম্মদ হোসেন। এছাড়াও ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মো. শহীদুল্লাহ, তাজুল ইসলাম ফরিদ হোসেন, আকিলউদ্দিন, আকরাম আহাম্মদ, মোহাম্মদ টিপু, কে এম শোয়েন, কামাল ভূইয়া, ডাক্তার শোয়েব, মো. লতিফ, কাজী শরফুদ্দিন, হুমায়ুন কবির খান ও মিন্টু।

এই ১৪ অস্ত্রবাজই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণও করত বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ফ্রিডম পার্টি বাংলাদেশের নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার সামরিক বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার হাতে হত্যার শিকার হন। হত্যাকারী কিছু কর্মকর্তা যেমন, ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে লে. কর্নেল) খন্দকার আব্দুর রশিদ, কর্নেল সাঈদ ফারুক রহমান ও মেজর বজলুল হুদা পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন।

0