২৭ কোটি টাকায় ৬০টি রেসকিউ বোট নির্মান, ৮টি হস্তান্তর

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মাণাধীন বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য ৮টি উদ্ধারকারী আধুনিক নৌযান হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্দরের সোনাকান্দা এলাকায় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান আতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান নৌযান গুলো হস্তান্তর করেন।

আজ মন্ত্রনালয়ের জন্য ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৪ ফুট দৈর্ঘ এবং সাড়ে ১২ ফুট প্রস্থ্যের ৬০টি মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেসকিউ বোটের মধ্যে প্রস্তুতকৃত ৮টি বোট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এ ডকইয়ার্ডে আরও ৫২টি বোট নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। যার মধ্যে ৩০টি বোট এ বছরই হস্তান্তর করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়, জনগন পানি বন্দি হয়ে থাকে। তাদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা, তাদের গবাদি পশু আনা। মাঝে মাঝে নদী ভাঙ্গনের কারনে বসত ঘর তুলে নিয়ে আসতে হয়। পাশাপাশি তাদের ত্রান পৌছে দেয়া। এগুলো সাধারণ নৌযান দিয়ে করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমি বন্যার কবলে পরা এলাকাগুলো পরিদর্শনের সময় দেখতে পেলাম যে, নদী পানিতে অনেক স্রোত থাকে, ঢেউ থাকে যার কারনে নৌযানগুলো উদ্ধারকার্যে অংশ্র গ্রহন করতে চায় না। প্রত্যেকটা জেলায় যখন আমরা সভা করেছি তখন তারা অভিযোগ করেছে যে আমাদের নৌযানের অনেক অভাব। এ সময় মামনীয় সায়মা ওয়াজেদ আমাদের ডেকে বললেন, বোটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং উদ্ধারকার্যের সময় যাতে প্রতিবন্ধীরাও সহজে উঠতে পারে তাই এটাকে এক্সেসেব্যাল করতে হবে। সেগুলোতে টয়লেট এবং সোলার সিস্টেম থাকতে হবে। বোটগুলোতে আহত ব্যক্তিদের জন্য হুইল চেয়ার,ওয়াকিং ফ্রেম ও ষ্ট্রেচারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি জানান, আমরা এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে কথা বলি এবং বোটের ডিজাইন তৈরি করে মাননীয় সায়মা ওয়াজেদকে দেখানো হলে তিনি অনুমতি দেন। এরই ধারবাহিকতায় আজ আমরা ৮টি বোট ৮টি জেলায় হস্তান্তর করি এবং সেই জেলার উদ্দেশ্যে বোট গুলো রওনাও হয়ে গিয়েছে। এ বছরই আরও ৩০টা বোট আমাদের হস্তান্তর করা হবে। আগামী বছর আমরা বন্যার কবলে পরা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বোট দেয়ার ব্যবস্থা করবো। এগুলো হয়ে গেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে বন্যায় আমাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।

তিনি আরও জানান, আমাদের একটি কর্মসুচি রয়েছে অর্ন্তরভুক্তি মুলক ঝুঁকি রাশ কর্মসুচি। এটির প্রধান উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ এবং আমি সভাপতি। আমাদের কাজ হলো প্রতিবন্ধীরা যাতে দুর্যোগের সময় একটু বেশি প্রাধান্য পায়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আতিকুল হক, নৌ-বাহিনীর উপ-প্রদান রিয়ার এডমিরাল শফিউল আজম, আদর্শ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপিত কাজল রেখা, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এস এম মনিরুজামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

0