প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাত না পেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কর্মস্থলে এসে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলে ৫ লাখ টাকা করে পাবে ট্যাংক লড়ি চালক ও শ্রমিকের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে এর পুরো অর্থ বহন করবে টেংকলরীর মালিকগণ। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীগ্রই চালু হবে এই ‘দূর্ঘটনা বীমা’ প্রথা।

ধানমন্ডি সীমান্ত স্কয়ার মার্কেটের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে শনিবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন।

সংগঠনের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান রতন জানান, ‘দূর্ঘটনা বীমা প্রথার নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাস্তবায়ন হলে সুফল পাবে চালক-মালিকদের পরিবারের সদস্যরা এর সুফল ভোগ করবে। তবে, এর জন্য সরকার থেকে কোন রকম সহযোগীতা নেওয়া হবে না।’

সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাজমুল হকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ এনে মো. মিজানুর রহমান রতন আরও জানান, শুধু ফতুল্লা শাখা থেকেই গত ২ মাসে আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এই আয় গত ১০ বছর যাবত সে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করলেও হিসাব দেয়নি। আপনাদের সম্মতিক্রমে আমরা সেই টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিবো। তার কারণেই এই সংগঠনটি পিছিয়ে গেছে।

মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান রতন

মো. মিজানুর রহমান রতন বলেন, জ্বালানী তেল বিক্রয়ের প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭% করতে হবে। জ্বালানী তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট যা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল করতে হবে কারণ প্রবেশদ্বার ব্যবহারকারীরা অর্থ্যাৎ সকল যানবাহন সরকারের নিয়ম মাফিক কর প্রদান করেন। ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সকল জ্বালানী ডিপো সংলগ্ন ট্যাংকলরী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল’র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাস, রাজশাহী বিভাগের মো. রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের এম.এ মোমিন দুলাল, রংপুর বিভাগের রফিকুল আলম, এটিএম হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের আহবায়ক মিজান প্রধান, মীর সোহেল আলী, আনোয়ার হোসেন মেহেদী।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, ‘সমস্যা গুলো দীর্ঘদিনের, কিন্তু সমাধান হয় না। তাই আমাদের দাবি একটাই হওয়া উচিৎ, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা ছাড়া পেট্রোল পাম্প চালাতে পারছি না।’ তাই আপনাদের সিদ্ধান্ত ক্রমে চিঠি লিখতে চাই, সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সময় না দেয়, তাহলে পেট্রোল পাম্প বন্ধ করতে বাঁধ্য হবো। আমরা এখন শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি, তাই প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বিকল্প কোন পথ দেখছি না।’

সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মিজান প্রধান

সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মিজান প্রধান জানান, দাবি গুলোর সাথে আমরা একমত পোষণ করছি। দাবি গুলো অত্যান্ত যুক্তিসঙ্গত। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল ধরণের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত আছি। সারাদেশ এখন আধুনিক হচ্ছে, কিন্তু ডিপুর মালিক শ্রমিকরা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাবেক সভাপতির থেকে সংগঠনের আত্মসাৎকৃত টাকা উত্তোলন ও নিজেস্ব জমিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় নির্মাণের দাবি তিনি।

এ সময় সংগঠনের সকল সিদ্ধান্তে পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করবেন বলে জানান ফতুল্লা শাখার সভাপতি মীর সোহেল আলী।

খুলনার বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের শেখ মুরাদ হোসেন, ময়মনসিংহ বিভাগের এসএম বাদশা, কুমিল্লার মো. মোহন, চট্টগ্রামের মো. শহিদুল্লাহ শাহজাহান, ঝালকাঠির আব্বুবক্কর বাচ্চু, যাত্রাবাড়ির রেজাউল করিম রেজা ও নারায়ণগহ্জের সাইতুর রহমান রিপনসহ আরও অনেকে।