৪২ মৃতদেহ দাফনে ‘এহসান পরিবার’: এ সব মহৎ মানুষ ছিল বলেই যুদ্ধ করে যাচ্ছি’ ডি‌সি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করোনায় মৃতের পাশে নেই স্বজনরা। জানাজা-তো দূরে থাক, কবরস্থানের আশেপাশেও দেখা মিলছে না স্বজনদের। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর দূরে সরে যাচ্ছে। নিসঙ্গ শেষ যাত্রায় পাশে থাকছেন না স্বজনরা।
এমন অবস্থায় প্রথমদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ এসব মৃত ব্যক্তির দাফন কিংবা সৎকার করলেও, এখন যুক্ত হয়েছে আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঈদের এই দিনগুলোতেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। করোনায় মৃত বেশিরভাগের মরদেহ গ্রহন থেকে শুরু করে জানাজা, দাফনের দায়িত্ব পালন করছে।

নারায়ণগঞ্জে তেমনই এক সংগঠনে এহসান পরিবার। ইতোমধ্যে ৪২ মৃতদেহ দাফন করেছেন তারা।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করোনায় মৃত ও আক্রান্তদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা পৌছে দেওয়ার দায়িত্বটিও পালন করছে এহসান পরিবার। ঝুঁকি নিয়ে আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন সেই সহায়তা। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনদের পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রদেয় শিশু খাদ্যগুলোও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।

এহসান পরিবার নিয়ে ২৮ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, ‘করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলায় লাশ দাফন, গোসল এবং অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা শিশুখাদ্য পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নেয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী। আজ তাদের সাথে (এহসান পরিবারের) কাটালাম, তাদের অনুপ্রেরণার গল্প শুনলাম, আমি উৎসাহিত করলাম। তাদের হিসাব মতে ৪২ জনকে তারা দাফন করেছেন যদিও তারা এও বলেছেন এরা সবাই আক্রান্ত ছিল না। পরিবার এলাকাবাসী এই দুর্যোগের সময় এই সব মানুষকে ফেলে দিয়েছিল। এছাড়া আমার অনুরোধে আক্রান্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার কিংবা সহায়তা টাকা দায়িত্ব নিয়ে পৌছে দিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি এই সব মহৎ মানুষ ছিল বলেই মহামারী করোনা মোকাবেলায় এখনও যুদ্ধ করে যাচ্ছি। ১ জুন থেকে দেশের সামগ্রিক কার্যক্রম কিছু পরিবর্তন আসবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে অনুরোধ আপনারা ঘরে থাকুন। এছাড়া রোগী শনাক্ত হলে অথবা মনে হলে তার সহযোগিতা করুন। প্রয়োজনে আমাদের জানান আমরা এইসব স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আপনাদের কাছে পৌঁছে যাব।’

0