৫ কিলোমিটার থেকে দুই মাসে অর্ধশত চাঁদাবাজ গ্রেফতার

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। শুধুমাত্র সাইবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার থেকে গত দুই মাসে অর্ধশত চাদাবাজকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি হচ্ছে এমনটা স্বীকার করে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীও জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে পরিবহন সেক্টরে সবচেয়ে বেশী চাদাবাজি হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখটাকা চাদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি দলের বিভিন্ন স্তুরের নেতা পরিচয়ে এ চাদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা। প্রধান সড়ক ছাড়াও পাড়া মহল্লার সড়কের চাঁদা দিয়ে চলতে হয় ইজিবাইক। প্রতিদিন কয়েক হাজার ইজিবাইক চলে জেলার বিভিন্ন রুটে। প্রতিটি ইজিবাইককে প্রতিদিন ১৫০টাকা চাদা দিতে হয় । ইজিবাইক ছাড়াও মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কের পরিবহন সেক্টরে চলে চাঁদাবাজি ।
এদিকে সড়কে চাদাবাজ যেমন বেড়েছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে। গত ২জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও জাসদের চার নেতাকে শিমরাইল গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, জাসদের (ইনু) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি এসএম মাসুদ রানা, থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ইলিয়াস মোল্লা ও জহিরুল হককে।
জানা গেছে, ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত পরিবহনে সেক্টরে প্রতিদিন প্রায় হাজার খানেক পরিবহন থেকে চাদা আদায় করছে কান্দাপাড়া এলাকার রুপ্পু হাজীর ছেলে রাজু। সাইবোর্ড পারিজাত এলাকায় পন্যবাহি যানবাহনের চালক হেলপারদের মারধর করে প্রতিদিনই চাদা আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এছাড়া আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ার পর পরিবহন সেক্টরের চাদাবাজি এবং বাস ডাকাতির ঘটনায় রাজু জাড়িত থাকার কথা বলেছে। রাজুর বিরুদ্ধে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা একাধিক মামলা। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশের খবর পেলে সে পারিজাত মার্কের্টের ভেতর লুকিয়ে থাকে । পরে পুলিশে চলে যাওয়ার পর আবারো অপকর্ম শুরু করে।
স্থানীয় একজন পরিবহন হেলপার জানান, রাজুর চাদাবাজিতে তারা অতিষ্ঠ। পুলিশও জানের তার অপকর্মের কথা। সে প্রায় চালক হেলপারদের মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় প্রতিটি পরিবহন তাকে চাদা দিতে হয়।
র‌্যাব-১১ সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের শিমরাইল মোড় এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজি করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন।
গত ২জুন নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড় কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আটকরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি করে আসছিলেন। গ্রেফতাকৃতরা হলো মোশারফ,শামীম, রাব্বী ওরফে বাবর,খোরশেদ আলম ইমন, কাজী এরশাদুজ্জামান ওরফে এরশাদ, আ. কাদের ওরফে সুমন,জাহাঙ্গীর আলম,আলমগীর হোসেন,আ. সালাম,জিয়াউর রহমান, মাহফুজুর রহমান,মহসিন মিয়া,মুনসুর আলী,আরশাদ মোল্লা,জহুর আকন্দ,ওমর ফারুক, হুমায়ুন কবির,হাসান কাউসার ও মনিরুল ইসলাম
এর আগে গত ৩১ মে দিনগত রাতে অভিযানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল ও সাইনবোর্ড এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় ১৩ জনকে আটক করে র‌্যাব।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ সম্প্রতি বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক চোরাচালান করবে, চাঁদাবাজি করবে কিন্তু আমরা তাকে ধরতে পারবোনা। এমনটি আমরা হতে দিতে পারিনা। এমন অবস্থা দেখে আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছিনা। এক্ষেত্রে আমরা কোন দল দেখছিনা’।

0