৫ প্রকল্পে এহসান চেয়ারম্যানের ‘পুকুর চুরি’!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: খাতা কলমে প্রকল্পটির নাম ‘তমুদরদী গ্রামে আলী হোসেনের বাড়ি সামনের সরকারি পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ’; ব্যয় ধরা হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। বাস্তবে গিয়ে প্রকল্পটির অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। আর স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুকুরটির পাশে আলী হোসেন নামের কারো বাড়িই নেই!

একই অবস্থা, ‘১নং ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ আকলিমা বেগমের বাড়ী থেকে খোরশেদ মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত মেরামতসহ ইটের সলিং’ নামের প্রকল্পটিরও। যার ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ টাকা। খাতা কলমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলেও সরেজমিনে কিছু্ পাওয়া যায়নি।

শুধু এ দু’টি প্রকল্পই নয়, গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বন্দর ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হওয়া অধিকাংশ প্রকল্পতে হওয়া এমন অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে লাইভ নারায়ণগঞ্জ’র অনুসন্ধানে। কয়েক পর্বের প্রতিবেদনের আজ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিনদের ৫ প্রকল্পের ‘পুকুর চুরির’ চিত্র।

সরকারি অডিট অফিসারদের অনুসন্ধ্যান প্রতিবেদন অনুসারে, তমুদরদী গ্রামে পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ ও ১নং ওয়ার্ডে ইটের সলিং রাস্তায় দূর্নীতির মতোই দূর্নীতি হয়েছে, ইউনিয়নটির নিম্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের জন্য ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪২০ টাকার প্রকল্পে। এছাড়া স্ব-নির্ভর ও সাবলম্বী হওয়া দু:স্থদের মাঝে বনজ ও ফলদ বৃক্ষ বিতরণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু খাতা কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও কোন বিল ভাউচার ও গ্রহীতার প্রত্যয়ন পত্র দেখাতে পারেনি অডিট চলার সময়ে।

একই অবস্থা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে খাতা কলমে বাস্তবায়িত হওয়া ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষন’ নামের আরো একটি প্রকল্পের। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটি করার কথা ছিল কোন আইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু সরকারে কাছে জমা দেওয়া হয়েছে ‘মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্স’ নামের একটি ইট, বালু ও সিমেন্ট সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ভাউচার। অডিট অফিসারদের দাবি, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ‘কুশিয়ারা দক্ষিন পাড়া মেইন রাস্তায় থেকে মতিন মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিং’ এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ টাকা। কাজ করার কথা ছিল ১৯৬৮ বর্গ ফুট রাস্তার। অডিট অফিসাররা সরেজমিনে গিয়ে জানাতে পেরেছেন রাস্তাটি কাজ করেনি। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনানো হয়, ইউএনও অনুমতি না নিয়েই ওই টাকা দিয়ে ‘কুশিয়ারা দক্ষিণ পাড়ার মেইন রাস্তা থেকে হানিফের বাড়ি পর্যন্ত ৮১০ বর্গফুট ইটের সলিং’ করা হয়েছে। সেখানে বরাদ্দের প্রায় ১১৫৮ বর্গফুট ইট সলিং পাওয়া যায়নি। অতএব, এখান থেকেও প্রায় ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

৫ প্রকল্পে এতো লোপাটের বিষয়ে জানতে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কল রিসিভ করে তিনি কখনও বলেছেন ব্যস্ত আছি, আবার কখনও বলেছেন ‘মিটিংয়ে আছি’।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ কার্য্যালয়ে অডিট অফিসারগন তাদের কার্য সম্পাদন করেন। অডিট টীমে ছিলেন, সুনাম পাল (অডিট ম্যানেজার), মো. আশিকুজ্জামান (অডিটর-১), জাকিয়া সুলতানা হ্যাপি (অডিটর-২)। অপর দিকে অডিট চলাকালিন সময় ইউনিন পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচিবদের সাথেও আলাপ করা হয় বলে জানা গেছে।

0