৬০-৭০ টাকা বেতন দিতে পেরে উল্লাসিত শিক্ষার্থীরা

0

ফতুল্লা করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর ঘোষনার পর ঘোষিত বেতন দেয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ৩৫০-৪৫০ টাকার স্থলে ৬০-৭০ টাকা বেতন দিতে পেড়ে উল্লাসিত। একদিনের ঘোষনায় স্কুলের মাসিক বেতনের টাকা এতোটা কমানো হবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কখনো ভাবতে পারছে না। তবে সাধারন শিক্ষার্থীদের চেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা একটু বেশি আনন্দিত।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর ঘোষনার পর শনিবার শিক্ষার্থীরা ৬০-৭০ টাকা বেতন দেয়া শুরু করেছে। মাত্র ৬০-৭০ টাকা স্কুলের মাসিক বেতন করায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বেতন দিতে আসা ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্র তন্বয় বলেন, প্রতি মাসে সাড়ে ৩’শ টাকা করে বেতন দিতে হতো। বাবার কাজ কর্ম মন্দ থাকায় তিন মাসের বেতন দিতে পারিনি। চিন্তায় ছিলাম এক সাথে তিন মাসের বেতন দিবো কিভাবে। এখন দিতে না পারলেও বার্ষিক পরীক্ষার সময় তো সব বেতন পরিশোধ করতে হবে। এক সাথে এতো টাকা দিতে বাবা মায়ের জন্য চাপ হয়ে যেতো। কিন্তু বৃহস্পতিবার বেতন কমানোর ঘোষনার খবর বাসায় গিয়ে বলায় বাবা পরীক্ষার আগেই ৬০ টাকা করে এক সাথে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে দিয়েছি।

৭ম শ্রেনীর ছাত্রী আঞ্জুমান আরা বলেন, ২য় সাময়িক পরীক্ষার সময় বেতনের টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় শুধু পরীক্ষার ফি দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হয়েছে। আমার বাবা একজন দিনমজুর তার পরও লোক লজ্জায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন ফি করার আবেদন করতে পারিনি। ৬০ মাসিক বেতন হওয়ায় শনিবার বাবা আমাকে চার মাসের বেতনের টাকা পরিশোধ করতে টাকা দিয়ে দিয়েছে। বেতনের টাকা কম হওয়ায় বাবা মায়ের টাকা দিতে কষ্ট হয়নি। তাই এক সাথে চার বেতনের টাকা দিয়ে দিয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দরা মাসিক বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর ঘোষনা দেয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দিত। সবাই স্কুলে এসে হাসি দিয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। শনিবার প্রথমে ৬০-৭০ টাকা বেতন দিতে পেরে শিক্ষার্থীর আনন্দিত। অনেকের ৩-৪ মাসের বকেয়া বেতনের টাকাও ঘোষনার টাকা নেয়া হচ্ছে। এতে সবাই খুশি। আর সেই সুবাধে সবাই মাস শেষ না হতেই বেতনের টাকা পরিশোধ দিচ্ছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেকে লেখাপড়া করলেও মাসিক বেতন ৩৫০-৪০০ টাকা করে দিতে একটু কষ্ট হয়। যার কারনে অনেক অভিভাবক বেতন কমানোর জন্য আমাদের কাছে আবেদন করে আসছিল। আর ভর্তির সময় অনেক অভিভাবক ফি কমানোর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু আমার ইচ্ছে থাকা সত্বেও সবার দাবি পূরণ করতে পারি না। স্কুল হতে ভর্তি ফি ও বেতনের টাকা কমাতে না পারলেও কিছু লোককে নিজের পকেট থেকে কিছু সহযোগিতা করি।

এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলের মাসিক বেতন ও ভর্তি ফি কমানো হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারী বেতন পাওয়ার পরও ২৩জন শিক্ষককে মাসে ৬ হাজার করে টাকা সম্মানী দেয়া সম্ভব। আমি চাই কম টাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করবে এবং শিক্ষকরাও সম্মানি পাবে। ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়কে দূর্নীতিমুক্ত রাখতে চাই।

0