৬ বছর পর ফাঁসির আসামী আক্কাস কারামুক্ত

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রিক্সা ভাড়া নিয়ে চালকের সাথে যাত্রীর ঝগড়া হয়; পরবর্তীতে ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা করে ধরা পরেন যাত্রী। ঝগড়ার জেরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেই রিক্সা চালকের নাম জড়িয়ে দিয়েদেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। ফাঁসির নির্দেশ দেন আদালত। এরপর প্রায় ছয় বছর কনডেমড সেলে ছিলেন। অবশেষে আদালতের নির্দেশে কারামুক্ত হয়েছেন সেই চালক।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের কনডেমড সেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

রিক্সা চালকের নাম আক্কাস আলী (৩৮)। সেই আড়াইহাজার উপজেলার ঝাউপাড়া এলাকার রহমত আলীর ছেলে।

আক্কাস আলী জানান, আড়াইহাজারে রিকশা চালাতেন। উপজেলার বালিয়াপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম তাঁর রিকশায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন। ভাড়া নিয়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় জাহাঙ্গীর তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে ডাকাতিকালে এক হত্যার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার মামলায় জাহাঙ্গীর পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। ঝগড়ার জেরে জাহাঙ্গীর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর (আক্কাস আলী) নাম জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এই ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে অনেক মারধর ও নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি মারধর ও নির্যাতনের পরও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে পুলিশকে জানান। তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।

আক্কাস বলেন, ‘মামলার পর থেকে ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছি। সবাইকে বলেছি আমি জড়িত না, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখে ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আমিসহ ৬ জনকে ফাঁসি দেন। বিনা অপরাধে তাঁর ফাঁসির আর্দেশ হয়েছিল। ফাঁসির রায়ের পর থেকে কনডেমড সেলে অন্ধকার ঘরে ছয়টি বছর কেটেছে। গ্রামের লোকজনের সহযোগিতার চাল তুলে আমার দরিদ্র সংসার চলেছে। কীভাবে যে একেকটি দিন কেটেছে, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আক্কাস আলীর স্ত্রীর আপিলে উচ্চ আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের খালাসের আদেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

0