৭৩ বেত্রাঘাত করা চেইঞ্জেস স্কুলের সেই শিক্ষক বহিস্কার হলেন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হোমওয়ার্ক করে না আনায় চেইঞ্জেস স্কুলের এক ছাত্রকে ৭৩ বেত্রাঘাত করা সেই শিক্ষক নাজমুলকে বহিস্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেঞ্জেস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা বসে এ সিদ্ধান্ত নেন।

১৬ এপ্রিল দুপুরে চেঞ্জেস স্কুলের চাঁদমারী ক্যাম্পাসে আইসিটি বিষয়ে হোমওয়ার্ক করে না আনায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্র সৈকত কুমার পাল ৭৩ টি বেত্রাঘাত করে আহত করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে তার পরিবার খানপুর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষ খুবগুরুত্বসহ কারে খতিয়ে দেখে স্কুলের চেয়্যারম্যান জিএম ফারুক, ২ জন পরিচালক, যথাক্রমে মালিক সোহেল সারোয়ার ও জেসমিন আলী, অভিভাবকগণ, অধ্যক্ষ সাদিকুর রহমান, সহকারি অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম বসে আইসিটি শিক্ষক নাজমুলকে বহিস্কার করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত ওই শিক্ষার্থীর পিতা সুরিথ পাল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

 

আইসিটি শিক্ষক নাজমুল স্যার

আহত শিক্ষার্থী সৈকত কুমারের বাবা সুরিথ কুমার পাল জানান, ওই শিক্ষক হয়তো কোন কারণে অসুস্থ্য ছিলেন। কোন সুস্থ্য মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট। তাই এখন আর অন্য কোন পদক্ষেপে যাবো না।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জিএম ফারুক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘আমাদের স্কুল যখন ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় থেকেই আমাদের বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও গত কালকের এই ঘটনা অত্যান্ত দু:খজনক ও রিদয় বিতারক। আমি গতকাল রাতে জানার সাথে সাথেই অভিভাবকের সাথে বহুবার যোগাযোগ করেছি। আমাদের অধ্যক্ষ সাদিকুর রহমান ও গণিতের সিনিয়র শিক্ষক আবিরকে খোঁজ খবর নিতে পাঠিয়েছি। তারা সেখান থেকে আমাকে ওই শিশুর শরীরের তথ্য দিয়েছে।’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ল্ড হাইস্ট মার্ক পেয়ে আসছে। এছাড়া স্কলারশীফট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, যেমন কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পড়া শুনা করছে। কেউ আবার উচ্চ পর্যায়ের কাজ, গবেষণা মূলক কাজ করছে।

জিএম ফারুকের ভাষ্য মতে ‘বাবা মায়ের শিক্ষার পরে যেখান থেকে শিশুরা শিখে, সেটা হলো স্কুল। এই স্কুলে যখন শিক্ষার্থীরা আসবে, তখন তারা নীতি, নৈতিকতা আর মূল্যবোধটা শিখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন ও ধারণ করে বিজ্ঞান মনস্ক আলোকিত মানুষ হবে। যাকে কেন্দ্র করে চেইঞ্জেস স্কুল পুথিগত বিদ্যার বহিরে অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে ‍শিক্ষার্থীদের সম্প্রিক্ত করে। আগামীতে কোন শিক্ষক যাতে এ ধরণের মারমুখি আচরণ না করে, সে জন্যই তাৎক্ষণিক ওই শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে।’

0