আইভীকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান ‘সৎ সাহস থাকলে মামলা করুক’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পর্দার অন্তরালে কিছু খেলা হয়। সেই খেলায় কেউ ভুল করে পা রাখে। হয়তো নারায়ণগঞ্জে যারা বিদেশি মেহমান এসেছেন, তারা কারো খেলাতে পা দিয়েছেন। খেলাটা কার? কখন থেকে এই খেলা শুরু? আমি কারো নাম বলবো না। এগুলোকে আমি গণায় ধরি না।
শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকালে ইসদাইর অক্টো অফিস সংলগ্ন বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক জরুরী কর্মী সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসেনর সাংসদ শামীম ওসমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পরে তদন্ত হল নারায়ণগঞ্জের জামায়াতের আমীর বল্ল, এবং এই জেলার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নিকট রিপোর্ট আসলো। এটা আজকের ঘটনা নয় গত অক্টোবরের ঘটনা। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান ও আওয়ামীলীগকে যদি চেক দিতে হয় তাহলে অমুককে সেলিনা হায়াৎ আইভী) আওয়ামীলীগে রাখতে হবে; এই অডিও ভিডিও আপনারা শুনেছেন। এখানে বিএনপি জামাতের ক্ষমতা নেই আওয়ামীলীগকে প্রটেক্ট করে। এই জন্য ওনারা এজেন্ট নিয়োগ করলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমরা যখন বাচ্চা অবস্থায় ছিলাম, তখন ১৯ জন মন্ত্রী কে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমাদের মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ৮৯ সনে দেশে ফিরেননি, তখন সাত জন ছেলে নিয়ে জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে ফেলেছিলাম। তখন জিয়াউর রহমান পতাকা নিয়ে তোলারাম কলেজে প্রবেশ করতে পারেনি। সেই সাথে খালেদা জিয়া ও আসছিলেন। তিনি বলেছিলেন কোথায় আওয়ামীলীগ আর শামীম ওসমান। তখন উনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমরা তখন বললাম খালেদা জিয়া আমাদের দেখতে চায়। আমাদের চেহারাটা দেখাই আসি। সেদিন তিনি মেইন রোড দিয়ে যেতে পারেননি। তাকে মাসদাইর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের উপর অত্যাচার হলো। যখন কর্মীরা নির্দেশ দিলো আর না, তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তার সাথে পুলিশ , বি ডি আর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিএনপির ছিলো। তখন ২৪ ঘন্টা পরে একজনও নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারেনি।

সাংসদ বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এবং শেখ হাসিনার কর্মী। আমার নেত্রী সুশাসন চায়। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চায়। প্রধানমন্ত্রী চায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে, কাউকে ট্যাক্স দিতে হবে না। তিনি চান মানুষ মন খুলে কথা বলবে, কাউকে ভয় পাবে না। সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করবে কারো উপর কোন আঘাত আসবে না।


শামীম ওসমান বলেন, বাইরের লোকেদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের ঘরের কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। আমি দেখে অবাক হই। সন্ত্রাসের কারণে যারে আমি দুইবার মৃত্যুর মুখ থেকে বাচায় নিয়ে আসলাম। আমার দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজির কারণে সরকারের নির্দেশে তাকে কয়েকবার গ্রেফতার করা হল। এমনকি নির্বাচনের আগেও গ্রেফতারের নির্দেশ ছিল। আমি বলছি তাকে গ্রেফতার কইরেন না। এরাও দেখি এখন সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠন করে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একজন মহিলা আছে। যার সাথে জামাতের কানেকশনের সুভাষ পেয়েছি। আমি ওর নাম বলতে চাই না। উনি বললেন জামাতের ওই অডিও কানেকশনের বিরুদ্ধে মামলা করব। জলদি মামলা করেন। তার সৎ সাহস থাকলে তাড়াতাড়ি মামলা করা উচিৎ। তাকে নিষেধ করলোকে। বলা হয়েছে ওসমান পরিবার খুনি পরিবার। আমি তাদের জন্য হেদায়াতের জন্য দোয়া করি। অল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন। তারা গালি না দিলে প্রমাণ হতো না মানুষ ওসমান পরিবারকে কতটা ভালবাসে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুহাসনাত মো. শহিদ বাদল, সাংগঠনকি সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.খোকন সাহা,জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ইব্রাহিম চেংগিস, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন,বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মহসিন মিয়া, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।