আইভীকে পূজামন্ডপে ‘অন্তরে ঘৃণা নিয়ে সাদরে গ্রহণ’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজার মন্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মীয় কাজে উৎসর্গ করা জমি (দেবোত্তর সম্পত্তি) দখলে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেছেন, ‘ধর্ম শিক্ষা থেকে সাদরে গ্রহণ করলেও অন্তরে ঘৃণা আছে এই মেয়রের প্রতি’।

শারদীয় দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিন সপ্তমীতে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের কয়েকটি পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বের হন মেয়র আইভী। পূজামন্ডপ পরিদর্শণ করে যাওয়ার পর এমন কথা জানান নেতারা। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের দূর্গা মণ্ডপ গুলোতে এবার মেয়র আইভী ও তার পরিবারের দখলে থাকা ‘দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার’ দাবিতে প্রতিকী আন্দোলন করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন।

নেতারা বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মীয় কাজে উৎসর্গ করা জমি (দেবোত্তর জমি) ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করার নিয়ম নেই। অথচ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়ার দেবোত্তর সম্পত্তি জিউস পুকুরের মালিকানা দাবি করছেন। এনিয়ে মেয়রের পরিবারের সাথে মামলাও চলছে।

২০২০ সালের ১১ নভেম্বর জমি রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা। এরপর ২০২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দখলকৃত পুকুরের পাড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর থাকার পরেও মঙ্গলবার প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস ও ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কবির হোসাইনকে সাথে নিয়ে দূর্গামন্ডপ পরিদর্শনে বের হন। এ সময় মন্ডপ কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে মেয়র আইভীকে বরণ করে নেন এবং পূজার প্রসাদ দেন। প্রসাদ গ্রহণ করে তা খান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার সঙ্গী সাথীরা। পরে পূজা মন্ডপ ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিপন বলেন, তিনি (মেয়র আইভী) সাপ হয়ে দংশন করেন, ওঝা হয়ে ঝাড়েন। উনার লজ্জা থাকা উচিৎ, উনার পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় কাজে উৎসর্গ করা জমি (দেবোত্তর সম্পত্তি) দখল করার অভিযোগ, তিনি আবার কি করে আসে। তারপরেও উনি যেহেতু এসেছে, আমাদের মন্দিরে যেই আসুক না কেন? ধর্ম অনুযায়ী, আমরা তাকে বরণ করবো। কিন্তু মনে মনে ঘৃণা তো থাকবেই। আমি সকলকে বলে দিয়েছে, উনি যেখানেই যাবে, উনাকে তোমরা অসম্মান করো না। কিন্তু ঘৃণাটাও থাকবে। অর্থাৎ উনাকে সবাই সাদরে গ্রহণ করলেও অন্তরে ঘৃণা থেকে যাচ্ছে।

 

নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

এবার না.গঞ্জের দূর্গা মণ্ডপে ‘দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার’ আন্দোলন

0