আইভীর ঘনিষ্ঠ সেই বিভার স্বামী শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান আটক

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী, কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলার প্রধাণ আসামী বিএনপি নেতা হাসান আহমেদ (৫৩) কে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। শনিবার সকালে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। আটককৃত হাসান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠ সহচর প্যানেল মেয়র-১ আফরোজা হাসান বিভার স্বামী।

এ হাসানের বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মন্ডলপাড়া, নিতাইগঞ্জ, বাবুরাইল এলাকায় বিভিন্ন পরিবহন, অবৈধ অটো স্ট্যান্ডে চাদাঁবাজী, মাদক বিক্রেতাদের শেল্ডারদাতা- মাদক সম্রাট সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান গ্রেফতার হওয়ায় জনমনে স্বস্থ্যি নেমে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান বাহিনীকে ব্যবহার করে নানা কার্যসিদ্ধ করে থাকেন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। জিমখানায় রেলওয়ের কোয়ার্টার ভেঙ্গে বসতবাড়ী উচ্ছেদ করতে হাসানের নেতৃত্বে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করেন। এরআগে মন্ডলপাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে সংঘর্ষে মেয়র আইভীর পক্ষে দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাসান বাহিনী ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। পুরস্কার স্বরুপ মেয়র আইভী তাকে মন্ডলপাড়া এলাকায় ডিআইটি সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে নামমাত্র মুল্যে বিশাল জায়গা বরাদ্দ দেন। মেয়র আইভীর সাথে হাসানের স্ত্রী বিভাকে সার্বক্ষনিক সঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করে দেওভোগ, বাবুরাইল ও আশপাশের এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে হাসান বাহিনী। শহরের দক্ষিনাঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেটও এই হাসান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গেছে।
নগরবাসী বরাবরই সন্ত্রাসী পরিবারকে সাথে নিয়ে আইভীর তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী বক্তব্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
এদিকে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশিপুরের হোসাইনি নগর এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুজনকে হত্যা করে। পরে নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। মামলায় প্যানেল মেয়র বিভার স্বামী বিএনপি ক্যাডার হাসান ও তার ভাই এম এ মজীদকে হত্যাকান্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
৪ বছরেও কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার পেছনে সিটি মেয়র আইভীর হাত রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। নিজেকে সন্ত্রাস ও খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবে জাহির করলেও জোড়া খুনের মামলায় তার অতি ঘনিষ্ঠজন প্যানেল মেয়র-১ বিভা আফরোজের স্বামী বিএনপির ক্যাডার হাসান ও ভাসুর এম এ মজীদ হুকুমের আসামী হওয়ায় এখানে তিনি প্রতিবাদকারী না হয়ে হয়েছেন খুনীদের পক্ষের তদবীরকারী। ফলে মামলাটি ৪ বছর ধরে ঝুলে আছে। এমনটা ই অভিযোগ স্থানীয়দের। হাসান বাহিনীর বিশাল মাদক ব্যবসা ও নানা অপকর্মের বিষয়ে কখনোই কথা বলেন না মেয়র আইভী।

0
,