আইভীর ‘জাতীয় দুর্যোগ’র বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বর্তমান সরকার ও প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একের পর এক উন্নয়ণের মহাযজ্ঞ চলছে দেশজুড়ে। করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মহামারীকে পেছনে ফেলে অল্পদিনেই মূলধারায় চলে এসেছে দেশ। চলছে দেশকে এগিয়ে নেয়ার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। চলমান এসব কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর চেষ্টা চলছে। অব্যাহত রয়েছে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কুমিল্লায় ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সারাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও আইন-শৃংখলা বাহিনী ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হয়েছে। তারপরও এর পেছনে কারা আছে, কোন অপশক্তি দেশকে অকার্যকর করতে ধর্মকে ব্যবহারের চেষ্টাসহ নানা পন্থা অবলম্বন করছে। এর পেছনে কারা রয়েছে তা খুঁজে বের করতে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে চট্রগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আর গত ১২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি বক্তব্যকে ঘিওে বর্তমানে চলছে নানা সমালোচনা। ওই দিন আইভী বলেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এক আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে জাতীয় ভাবে কোন দুর্যোগ ডেকে আনছে কি না!’

যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ জাফরউল্লাহ, আনু মোহাম্মদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোক্তা নুরুল হক নূর, কথিত বাম নেতা জোনায়েদ সাকিসহ অনেকে প্রেট্রোনাইজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় বিষবাস্প ছড়িয়ে উসকানী দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নজরদারী রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কিছু বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উসকানী হিসেবে দেখছে বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, হঠাৎ করে কি এমন ঘটে গেলো যে, মেয়র আইভী বলে ফেললেন ‘জাতীয়ভাবে দূর্যোগ ডেকে আনা হচ্ছে’। এরআগে তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে জঙ্গী এলাকা বানানোর চেষ্টা চলছে’। তবে কারা কি কারণে জঙ্গী এলাকা বানাতে চায় এবিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। এরআগে মেয়র আইভীর ভাষ্য ছিলো ‘কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা সম্পর্কে জানার কথা। যেখানে বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনী চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত করছে। সেই খুন সম্পর্কে তিনি কি জানেন? জানলে কেন বলছেন না? আইন-শৃংখলা বাহিনীই বা কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না। এনিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন মহলে। ২০১৯ সালের ৬ মার্চ মেয়র আইভী এক সমাবেশে বলেছেন, সাগর-রুনীর ব্যাপারে আমরা অনেক কিছুই জানি, অনেকে এর সাথে জড়িত, তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছেনা, সেটাও জানি কারা জড়িত’।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ অক্টোবর মেয়র আইভী বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এক আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে জাতীয় ভাবে কোন দুর্যোগ ডেকে আনছে কি না! নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কে করছে এ সব? তারা কিন্তু এই আওয়ামী লীগের মধ্যে ডুব মেরে থেকে ব্যক্তি স্বার্থ দেখছে। ’

মোটা দাগে প্রশ্ন উঠেছে, তার এ বক্তব্যের পরের দিন থেকে সারা দেশে এক চক্রের কারসাজিতে অস্থিরতা তৈরী হয়। ধর্মীও ইস্যুতে চরম উত্তেজনাকর সেই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্ব সাধারণ হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে পরিস্থিতি সামলে নেন।

কুমিল্লার একটি মন্দিরের ঘটনায় যখন সারা দেশ উত্তপ্ত, তখন নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের পাশাপাশি এমপি শামীম ওসমান ও তার নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা মন্দিরে মন্দিরে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে শারদীয় উৎসব সম্পন্ন করেন। সে সময় মেয়র আইভীর নিরবতায় প্রশ্ন উঠেছে।

জেলার শীর্ষ নেতারা ও রাজনৈতিকবোদ্ধারা জানতে চাচ্ছেন, ‘ওই দেশি-বিদেশী চক্রের সাথে আইভীর কী যোগসাজেস রয়েছে? তার সেই ‘ জাতীয় দুর্যোগ’ এর ইঙ্গিত কী মেসেজ দিচ্ছে?

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেছেন, ‘রাস্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তিনি সব জানেন। কি জানেন তিনি। সেটা জানতে হলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি দাবি রাখছি, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হউক’।

একই সুরে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেছেন, ‘কি জানেন তিনি? জানলে জনসম্মুখে প্রকাশ করছেন না কেন? আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বলছেন না কেন? তিনি কি সরকারকে হুমকী দিচ্ছেন।  এব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’।

0