আইভীর মামলায় বিভেদ বাড়ার শঙ্কা ক্ষমতাসীনদের

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর মামলার দায়েরের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা।

এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে মেয়র আইভীর দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে লাইভ নারায়ণগঞ্জ’র এই প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, “খোকন সাহার বিরুদ্ধে মেয়রের মামলা করাটা খুবই দু:খজনক। দলীয় ফোরাম আছে, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করা যেত। নারায়ণগঞ্জে না পারলে, তিনি সেন্ট্রালে অভিযোগ করতে পারতেন। সেখানে সিনিয়র নেতারা ব্যাবস্থা করতেন। সম্মানজনক পদে থাকা দুই নেতা, একে অপরকে এভাবে হেনস্তা করলে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। এতে করে দলের মধ্যে নিশ্চয়ই বিভেদ বাড়বে।”

এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেছেন, “দলের ‘চেইন অব কমান্ড’ আছে। কেউ যদি গায়ের জোড়ে সেটা না মানে, তাকে জোড় করে বুঝানো যাবে না। দলের একজন নেত্রী, একজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করলে তার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে। তবে, তার(আইভী) দলের শৃঙ্খলা, সুনাম, দুর্নামের বিষয়ে চিন্তার দরকার ছিল। খোকনের বিরুদ্ধে আইভীর মামলার বিষয়টি দুঃখজনক। দলীয় ফোরাম আছে সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করা যেত। নারায়ণগঞ্জে না পারলে সেন্ট্রালে অভিযোগ করতে পারতেন, সেখানে সিনিয়র নেতারা ব্যবস্থা করতেন। সম্মানজনক পদে থাকা দুই নেতা, একে অপরকে এভাবে হেনস্তা করলে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। এতে করে দলের মধ্যে নিশ্চয়ই বিভেদ বাড়বে।”

মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমি দলের নেতৃত্বে আছি, আমার দ্বারা যদি কোন সিনিয়র লিডার ইফেকটেড হয়, সেজন্য দলীয় ফোরাম আছে ও হাইকমান্ড জননেত্রী শেখ হাসিনা আপা, ওবায়দুল কাদের ভাই আছে। নারায়ণগঞ্জের সমস্যায় দলীয় ফোরামের হাই সাহেব, বাদল ভাইসহ সম্পূর্ণ বডির কাছে জানানো উচিত ছিল। যদি নারায়ণগঞ্জ হাইকমান্ড ব্যবস্থা না নেয়, তখন সুপ্রিম হাইকমান্ড শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে যেতে পারতো। তখনও যদি তার(আইভী) মনের মতো না হতো, তখন ব্যাক্তিগত মনের কষ্টের জন্য অন্য সিদ্ধান্তে যেতে পারতো।’

দলের মধ্যে এতে কোন বিভেদ সৃষ্টি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হলো মহাসমুদ্র। এখানে ব্যাক্তি ভুলে লাখো লাখো কর্মীর বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে না। ছোট একটা অপশক্তির বলয় সৃষ্টি হতে পারে। কিছু পানি নোংরা হতে পারে, দল নোংরা হবে না। এই দলে আইভী যেমন আছে, তেমনি আনোয়ার ভাই, শামীম ওসমান, বাদল ভাই, খোকন ভাই, চন্দন শীল ভাই আছে।’

তাহলে বিরোধীদলহীন এই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের শত্রু কি আওয়ামী লীগ- এমন প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ কোন দিন হবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন থাকবে, বঙ্গবন্ধুর সুরের ধারা যতদিন থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগে শত্রু হবে না। তারা আওয়ামী লীগ হতে পারে, মামলা করে তারা(আইভী) ব্যাক্তি লীগার হয়ে গেছে।’
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান বলেছেন, ‘মেয়র আইভীর করা এই মামলা যুক্তিসঙ্গত নয়। আমি আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে মনে করি ঝগড়া অনেক দিন হয়েছে। রাগ কমিয়ে দুই পক্ষ মিললে আমাদের মতো নেতাকর্মীদের জন্য ভালো হতো। এতে করে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভেদ বাড়বে বলে আমি মনে করি।’

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো: হাবিবুর রহমান রিয়াদ জানান, ‘আওয়ামী লীগের বিজ্ঞ নেতা ও ৪০-৪৫ বছর যাবত রাজনীতি করা উনার(খোকন) মতো নেতার বিপক্ষে দলের মধ্যে থাকা একজন মামলা করেছে বিষয়টা নিন্দনীয়। আমরা সমর্থন করি না, আইসিটি আইনে করা এই মিথ্যা মামলার। যে(আইভী) মামলা করেছেন, তার বিষয়ে অনেক কথা আছে, তিনি জামায়াত শিবিরসহ বাম সংগঠনের সাথে দালালী করে রাজনীতি করেন।’

0
, , , ,