আইভীর সে কথা আজও ভুলেনি মানুষ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:: করোনাকালে নারায়ণগঞ্জের মানুষের পাশে নিজ তহবিল থেকে একটি হেক্সিসল নিয়েও দাড়ায়নি সিটি কর্পোরেশন। উল্টো ঘরে বসে টিভি টক শোতে অংশ নিয়ে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘মানুষের খাই খাই স্বভাব আর গেলোনা। এতো ত্রাণ যায় কোথায়? নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকরা নাকি গ্রামের বাড়ী চলে গেছে, তাহলে ত্রাণের কি প্রয়োজন? একজন রিক্সওয়ালার ঘরেও ১৫ দিনের খাবার থাকে’। এসব মন্তব্য করে গোটা নগরীজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পাত্র হয়েছেন মেয়র আইভী।

করোনার ভয়াবহতা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে যখন বেসামাল করে তুলেছিলো তখন বাংলাদেশ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই মহামারী মোকাবেলা করেছে দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা, খাদ্য সহায়তাসহ সর্বদিক দিয়ে পাশে থেকেছে সরকার। বর্তমানে করোনার প্রতিষেধক টিকা নিয়ে একের পর এক দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সফলভাবে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার ভয়াবহতার সময় তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি করোনাকালে মানুষের পাশে থাকবে তাদের আগামীতে দলের মনোনয়ন দেয়া হবে। যারা থাকবেনা তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেনা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির সময় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন যেসব জনপ্রতিনিধি, তাদের মধ্যে অন্যতম নারায়নগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী। শুধু সিটি মেয়র না তিনি একজন ডাক্তার হিসেবে মানুষের সেবায় যেভাবে কাজ করার কথা ছিলো তাও করেননি। এমন অভিযোগ নগরবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় সারাদেশ যখন টালমাটাল। তখন নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছিলেন মেয়র আইভী। এমনকি তার বহুল আলোচিত বাড়ীর প্রধাণ দরজায় ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তালা। কোন সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিলো না মেয়রের বাড়ীতে। ঘরে বসে টিভি টক শোতে মেয়র আইভীর বক্তব্যে নগরীজুড়ে ক্ষোভের ঝড় বয়ে গেছে। মেয়রের অনুপস্থিতিতে করোনাকালে মানুষের পাশে থেকে একাধিক কাউন্সিলর ব্যাপক সুনাম অর্জণ করলেও মেয়রের কোন ভূমিকাই ছিলোনা করোনায়।

২০২০ সালের ১১ এপ্রিল রাতে চ্যানেল আই’য়ের ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সিটি মেয়র আইভী। ত্রাণ বিতরণ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিন যা বলেন তা নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দেয় নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে।
ওই অনুষ্ঠানে মেয়র আইভীর কাছে প্রশ্ন ছিল: লকডাউন মানুষ মানবেনা, পেটে ক্ষুধা থাকলে, ত্রাণ দেবার ব্যাপারে, দুঃস্থ্য মানুষকে খাবার দেবার ব্যপারে আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?
উত্তরে মেয়র আইভী বলেন, বাংলাদেশে এমন একটা অবস্থা হয়েছে, যে সবারই যেন ত্রাণ লাগবে। আমি অবাক হচ্ছি, যাদের অবস্থা ভালো আছে, তারাও ত্রাণ চায়। তাহলে নারায়ণগঞ্জের বাইরে যে বলা হচ্ছে এতো শ্রমিক চলে গেল, তাহলে কারা এই ত্রাণ খাচ্ছে? সবাই যদি গ্রামেই চলে গেছে, তাহলে এতো ত্রাণ কি দরকার? যে ত্রাণ দিচ্ছে সরকার সেটি যথেষ্ট। এর বাইরেও বহুলোক ত্রাণ দিচ্ছেন, এমপিরা দিচ্ছেন, সমাজপতিরা দিচ্ছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে দেয়া হচ্ছে। কোথায় কি হচ্ছে জানিনা, তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছে, ছবিসহ প্রমাণপত্র রাখছি আমরা। যাতে কেউ বলতে না পারে ত্রাণ পায়নি। কিন্তু মানুষের নাই নাই অভ্যাসটি যাবেনা! আর বিরোধী দলতো বলবেই পায়নি? এগুলো বাদ দিয়ে আমি বলবো আসুন একসাথে কাজ করি, খাবার সবাই পাচ্ছে। … এখন একটা রিক্সাচালকের ঘরেও ১৫ দিনের খাবার থাকে।

মেয়র আইভীর ত্রাণ নিয়ে এমন বক্তব্যে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয় নগরীর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে। তাদের ভাষ্য, মেয়রের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কোথায় গেলো সেই ত্রাণ? কত মানুষ ত্রাণের জন্য রাস্তায় বের হতে পারছে আইনশংখলা বাহিনীর ভয়ে। যদি ভয় না থাকতো তাহলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের জন্য বিস্ফোরণ ঘটতো না। কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও হতোনা। আর কাউন্সিলররা কতটুকু সহায়তা পেয়েছে সিটি করপোরেশন থেকে তা কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলেই জানা গেছে। তাদের বক্তব্য চাহিদার তুলনায় যা পাওয়া গেছে সেটা যদি এলাকায় বিতরণ করি বা করতাম তাহলে গায়েরর জামা থাকতো না। আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ভরে তারপর ত্রাণ বিতরণ করছি। মজার বিষয় হলো এই দুর্যোগময় মুর্হুতে সিটি করপোরেশনের ফান্ড থেকে এক বোতল হেক্সিসলও দেয়া হয় নাই। সরকারী ত্রাণ সিটি করপোরেশন তার কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিতরণ করছে। আর ঘরে বসে বাহাবা নেয়ার চেষ্টা করছেন মেয়র আইভী। এটা দু:খজনক।

ওই বছরের ১১ এপ্রিল এনসিসির ২১ নাম্বার ওয়ার্ডে ত্রাণ না পেয়ে অসহায় মানুষ কাউন্সিলর হানান সরকারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। ১২ এপ্রিল ১নং ওয়ার্ডের মক্কীনগর মাদ্রাসার সামনে ত্রাণ না পেয়ে ওই এলাকার অসহায় মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে।

0