‘আইভী থাকলে জীবনেও কমবে না যানজট’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরকে বলা হচ্ছে যানজটের শহর। চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ এতোটুকু শহরে রিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকের আধিক্যে যানবাহনের এই মহাজট। জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ স্বল্প জনবল নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন যানজট নিরসনে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। লেগেই আছে যানজট। কিন্তু কেন?

আর একজন আছেন, যিনি নগরীর দায়িত্ব নিয়েছেন ভোটের মাধ্যমে। অথচ তিনি কোন দায়িত্ব নেন না। ঠেলে দেন দায় অন্যের উপর। কখনো বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের দোষ। আবার কখনো বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যানজট। কিন্তু আজ পর্যন্ত যানজট নিরসনে কোন পদক্ষেপ কিংবা প্রশাসনকে নিয়ে কোন মতবিনিময় বা সভার আয়োজন করেনি। তিনি হলেন এ নগরীর মেয়র! যানজট নিয়ে যার কোন উদ্যোগ দেখেনি নগরবাসী গত দেড় যুগে। উল্টো অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

নগরীকে সুন্দর, বাসযোগ্য, যানজটমুক্ত করার দায়িত্ব কার? অবশ্যই নগরীর মেয়রের। তিনি চাইলেই চুটকিতে যানজট নিরসন করতে পারেন। কিন্তু সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা, দোষারোপ করা যার স্বভাব, এমন জনপ্রতিনিধি থাকলে জীবনেও যানজটমুক্ত হবেনা নারায়ণগঞ্জ শহর। এমন মন্তব্য নগরবাসীর।

নগরবাসী জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজটের প্রধাণ কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত যানবাহন। রিক্সার দাপটে চলা মুশকিল। লাইসেন্সবিহীন রিক্সা, ব্যাটারীচালিত অটোর আধিক্য যাজটের অন্যতম কারণ। আরেকটি কারণ হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের বাস টার্মিনাল। প্রতি বছর এই টার্মিনাল টেন্ডার দিয়ে আয় হয় সিটি কর্পোরেশনের। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে নেয়া হচ্ছেনা। অপরদিকে শহরের উপর দিয়ে রেললাইনের ৬টি সিগনাল এ ১৬ বার করে ৩২ বার ট্রেন আসে-যায়। এজন্য বারবার রাস্তা বন্ধ করতে হয়। এটাও যানজটের অন্যতম কারন। একারনে ডাবল রেললাইন চাষাড়া থেকে শুরু করার প্রস্তাব ছিলো। তাতে সাড়া দেয়নি সিটি কর্পোরেশন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, শহর যানজটমুক্ত হোক এটা কখনোই চাননা পুলিশের স্কট নিয়ে চলা সিটি মেয়র আইভী। যানজট ফুটপাতকে পুঁজি কওে অপরাজনীতি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। অথচ আমাদের নারায়ণগঞ্জের অনেক পরে সিটি কর্পোরেশন হওয়া গাজীপুরে যানজট নিরসনে মহতি উদ্যোগ নিয়েছেন সেখানকার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক বিভাগের পাশাপশি সিটি কর্পোরেশন থেকে শতাধিক লোক নিয়োগ দিয়েছেন যানজট নিরসনে। তারা সিটি কর্পোরেশনের পোশাক পড়ে জেলার ট্রাফিক পুলিশকে নিরলসভাবে সহায়তা করছে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র।

তারা আরও জানায়, যানজট এখন নারায়ণগঞ্জ শহরে সবচে বেশী আলোচিত বিষয়। যানজট নামক অভিশাপে নাকাল নগরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মিডিয়াসহ সর্বত্র যানজট নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। বাজেট বক্তৃতায় নগরীর মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীও কথা বলেছেন যানজট নিয়ে। তিনি নির্বাচনকে সামনে টেনে বলেছেন, নির্বাচন এলেই শহরে খুব বেশী যানজট হয়, হকার বেড়ে যায়। মেয়র আইভীর কথার বিশ্লেষনে বোঝা যায়, বর্তমান শহরে যানজটের সাথে আসন্ন সিটি নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। তার কথায় বোঝা যায়, শহরে যানজট দেখিয়ে মেয়রকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? তাহলে সারা বছর যানজট কী ছিল না?

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ১ ও ২নং রেলগেইট, গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক মোড়, চাষাড়াসহ বিভিন্ন সড়কের উপর দাড়িয়ে যাত্রী তুলছে বিভিন্ন পরিবহনের বাস। রিক্সা ও ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার দৌরাত্ম চোখে পড়ার মতো। ঘন্টা পার না হতেই ট্রেন আসছে-যাচ্ছে। নগরীর মূল সড়কের দু পাশে বড় বড় বিপনী বিতান ও ভবনের নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। আর পুরো শহরের মূল মূল পয়েন্টে বা মোড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের যে সদস্য সংখ্যা তা প্রয়োজনের তুলনায় অল্প। এসব কারণেই যানজট নিত্যদিনের। অথচ, যদি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৪০-৫০জন লোক নিয়োগ দিতো, যারা ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় কয়েক শিফটে কাজ করতো, তাহলে সড়কের পরিবহন সু-শৃঙ্খল বা নিয়ন্ত্রন সহজ হতো। থাকতো না যানজট। নগরবাসীর কর্মঘন্টা নস্ট হতো না। জরুরী চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে যানজটে অনেকের প্রাণহানী থেকে রক্ষা পেত। আইভী যেহেতু দেড় যুগেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি এ সমস্যা সমাধানে, তাই দায় টা তারই। তার জন্যই শহরে যানজট সমস্যা রয়েগেছে। এমনটাই দাবি করছেন নগরবাসী।

নগরীর বোদ্ধা মহল বলছেন, ‘মেয়র আইভী শত শত কোটি টাকার উন্নয়ণের কথা বলেন- অথচ, প্রতিমাসে ৫-৬ লাখ টাকা ব্যায়ে কিছু লোক নিয়োগ করলে এ শহর যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেত। ট্রাফিক পুলিশের যেহেতু জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই সিটি করপোরেশনের উচিত নগরবাসীর জন্য ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় লোক নিয়োগ করা’।

এ ব্যাপারে নগরীর যানজট নিরসণের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই কামরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাকালে পরিবহন কম চলাচল করায় নগরীতে যানজটও ছিল না। এখন গাড়ির চাপ বাড়ার সাথে সাথে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে নগরীর অলিগলি দিয়ে অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশা প্রবেশ করছে। গাড়ির পার্কিং করা হচ্ছে সড়কে। সব কিছু মিলিয়ে নগরীতে এখন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা যানজট নিরসণে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছি। এ সময় সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা ও মেয়র আইভীর দেওয়া যানজট নিরসনের বক্তব্য নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

0